বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) সন্ত্রাসদমন বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB) ফের বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে। মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক খুনের অভিযোগে শেখ হাসিনার দেড় দশকের প্রধানমন্ত্রিত্বে বারবার বিতর্কে জড়ানো এই বাহিনীকে কার্যত বিলুপ্ত করার পথে হাঁটল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ ঘিরে ভোটের আবহে র্যাবের কাঠামো ও পরিচয়ে আমূল বদলের ঘোষণা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে (Bangladesh) বদলে যাচ্ছে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা র্যাবের নাম
মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী জানান, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সুপারিশ মেনে র্যাবের নাম বদলানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‘র্যাবের নতুন নাম হবে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ বা এসআইএফ।’’ এই সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী নির্বাহী আদেশনামা শীঘ্রই জারি করা হবে বলেও জানান তিনি। সরকারের দাবি, বাহিনীর কাজকর্মকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতেই এই পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন:যুদ্ধবিরতির মতোই বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণাও ট্রাম্পের মুখেই! বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে কি বলল কেন্দ্র?
২০০৪ সালে সন্ত্রাসদমন বাহিনী হিসেবে র্যাবের জন্ম। তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। শুরু থেকেই বাহিনীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ ওঠে, যা ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর আরও তীব্র হয়। বিরোধী শিবিরের একাংশ র্যাবকে মুজিব আমলের রক্ষীবাহিনীর সঙ্গে তুলনা করত। সন্ত্রাস ও মাদক চোরাচালান দমনের নামে বেআইনি আটক, বিরোধীদের হেনস্থা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই র্যাবকে তাড়া করেছে।
হাসিনার শাসনামলে র্যাবের ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্নের মুখে পড়ে। ২০২০ সালে আমেরিকার সেনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটি র্যাবের শীর্ষ বিকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দেয়। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ২০১৫ সালের পর বাংলাদেশে ৪০০-র বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে র্যাব প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত। এই প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের জমানায় জাতীয় রক্ষীবাহিনীর বিরুদ্ধেও গুম ও খুনের অভিযোগের ইতিহাস নতুন করে আলোচনায় আসে। ১৯৭৫ সালে মুজিব হত্যার পর সেই বাহিনী ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন: “সংবিধান মানতে না পারলে দেশ ছাড়ুন” — হোয়াটসঅ্যাপ-মেটাকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের
তবে বিতর্কের পাশাপাশি র্যাবের কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্যও রয়েছে। ২০০৬ সালে তদারকি সরকারের সময়ে জেএমবি নেতা বাংলা ভাইকে গ্রেফতার এবং জঙ্গি দমনে একাধিক অভিযানে তাদের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। পিলখানা বিদ্রোহের পর যেমন বিডিআরের নাম বদলে বিজিবি করা হয়েছিল, তেমনই এ বার র্যাবের নাম বদলে এসআইএফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন পরিচয়ে বাহিনী আদৌ পুরনো বিতর্কের ছায়া কাটাতে পারবে কি না, সে দিকেই তাকিয়ে বাংলাদেশ।












