বাংলা হান্ট ডেস্ক: রেয়ার আর্থ (Rare Earth) তথা বিরল মৃত্তিকা বর্তমান সময়ে আধুনিক প্রযুক্তির মেরুদণ্ড হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। এগুলি বৈদ্যুতিক যানবাহন থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন এবং প্রতিরক্ষা সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে বিপুল ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে, চিন (China) রেয়ার আর্থের সাপ্লাই চেনে আধিপত্য বিস্তার করে রয়েছে এবং এটিকে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে। তবে, ভারত (India) এখন একটি সমাধান খুঁজে পেয়েছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে চিনের একটি বিকল্পের সন্ধান করছে। এবার ভারতের পড়শি দেশ মায়ানমার হয়তো সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে। উভয় দেশই রেয়ার আর্থের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
মায়ানমারে রয়েছে রেয়ার আর্থের (Rare Earth) ভাণ্ডার:
রয়টার্সের এক রিপোর্ট অনুসারে, ভারতীয় দল সম্প্রতি মায়ানমার সফর করেছে। মায়ানমারে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত অভয় ঠাকুর গত বুধবার মান্দালয়ে একটি মাইনিং ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেয়ার আর্থের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার কথা বলেন। তিনি বলেন, গত ২ বছরে মাইনিং সেক্টরে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য গতি লাভ করেছে। রেয়ার আর্থ ও অত্যাবশ্যকীয় খনিজ নিয়ে আলোচনা করতে ২ টি ভারতীয় প্রতিনিধিদল ২০২৪-এর ডিসেম্বর থেকে ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারির মধ্যে মায়ানমার সফর করেছে।

চিনের ভূমিকা: অভয় ঠাকুর উল্লেখ করেন যে, গত মে-জুন মাসে মায়ানমারের রাষ্ট্রপতি মিন অং হ্লাইং-এর ভারত সফরকালেও এই বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে আলোচিত হয়েছিল। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক হেভি রেয়ার আর্থ মায়ানমারের কাচিন প্রদেশের খনি থেকে উত্তোলন করা হয়। এরপর এই খনিজগুলি চিনে পাঠানো হয়। যেখানে এগুলি চুম্বক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। সেগুলি বৈদ্যুতিক যানবাহন ও উইন্ড টারবাইন চালাতে ব্যবহৃত হয়।
জানিয়ে রাখি যে, গত বছরের এপ্রিলে চিন রেয়ার আর্থ চুম্বকের রফতানি বন্ধ করে দেয়। যা ভারত ও আমেরিকাসহ বিশ্বের অনেক দেশকে ক্ষুব্ধ করে। এই চুম্বকগুলি অটো ও ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন সেক্টরে ব্যবহৃত হয়। চিন রেয়ার আর্থের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী দেশ। US জিওলজিক্যাল সার্ভে অনুসারে, ২০১৪ সাল থেকে চিনের রেয়ার আর্থ উৎপাদন ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: আর নয় অন্যের ওপর নির্ভরতা! বুলেট ট্রেনের জন্য নিজস্ব সুপারফাস্ট সিস্টেম তৈরি করছে ভারত
মায়ানমারের রেয়ার আর্থ উৎপাদনের পরিমাণ: উল্লেখ্য যে, চিন ২০২৪ সালে ২৭০,০০০ মেট্রিক টন রেয়ার আর্থ উৎপাদন করেছিল। যা গ্লোবাল উৎপাদনের ৬৯ শতাংশ। এর তুলনায়, আমেরিকা ৪৫,০০০ টন এবং মায়ানমার ৩১,০০০ টন উৎপাদন করেছিল। গ্লোবাল উৎপাদনে আমেরিকার অংশ ১১ শতাংশ এবং মায়ানমারের অংশ হল ৮ শতাংশ।













