বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমান সময়ে ভারতের (India) অর্থনীতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। ঠিক এই আবহেই এবার বড় তথ্য সামনে এসেছে। মূলত, এখন দেশের গ্রোথ কেবল তথ্যপ্রযুক্তি বা ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং, তাতে আরও নতুন ক্ষেত্রের সংযোজন ঘটেছে। ইতিমধ্যেই গ্লোবাল কনসাল্টিং ফার্ম বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ (BCG)-র সর্বশেষ রিপোর্টে একটি নতুন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ওই রিপোর্ট অনুসারে, আগামী কয়েক বছরে ভারতের কেমিক্যাল মার্কেট দ্বিগুণ গতিতে বৃদ্ধি পাবে। আজ প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বাজারটি ২০৩০ সালের মধ্যেই ৩০০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৫ লক্ষ কোটি টাকা) অতিক্রম করবে বলে জানানো হয়েছে ওই রিপোর্টে।
ভারতের (India) এই সেক্টরে হতে চলছে বিপুল বৃদ্ধি:
১ বিলিয়ন ডলারের সুযোগ: রিপোর্টে এই সেক্টরকে ‘সানরাইজ’ সেক্টর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ভারত বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর (চিপ) উৎপাদনে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। চিপ তৈরিতে ৪০ টিরও বেশি ধরণের আল্ট্রা-পিওর রাসায়নিকের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে, এই প্রয়োজনীয় রাসায়নিকগুলির জন্য ভারত জাপান থেকে শুরু করে কোরিয়া, তাইওয়ান এবং চিনের ওপর নির্ভর করি।

BCG-র রিপোর্টে এই বিষয়টিকে ভারতীয় কোম্পানিগুলির জন্য একটি ‘শূন্য স্থান’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। শুধুমাত্র ফ্যাব্রিকেশন স্টেজের ইনপুটগুলি ভারতীয় প্রস্তুতকারীদের জন্য ১ বিলিয়ন ডলারের সুযোগ উপস্থাপন করে। যদি ভারতীয় কোম্পানিগুলি ক্লিন-ল্যাব ইনফ্রাস্ট্রাকার এবং পিউরিফিকেশন সিস্টেমে বিনিয়োগ করে, সেক্ষেত্রে আগামী দশকে ১০০-২০০ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ থাকবে।
আরও পড়ুন: IPL থেকে বহিষ্কারের জেরে KKR-এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা? কী সিদ্ধান্ত নিলেন মুস্তাফিজুর রহমান?
এমতাবস্থায়, BCG ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অমিত গান্ধী জানিয়েছেন, ভারতের রাসায়নিক শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে। কোম্পানিগুলির কাছে অর্থ, ক্ষমতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে, কিন্তু তাদের এখন ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কেবল ‘মোমেন্টাম’ বা পুরনো গতির ওপর নির্ভর করা যাবে না। বরং, ভারতীয় কোম্পানিগুলিকে এমন একটি বড় বাজি ধরতে হবে। যা ২০৩০-এর দশকে তাদের পোর্টফোলিওগুলিকে সংজ্ঞায়িত করবে। এর অর্থ হল, এটি এখন কেবল প্রচুর পণ্য বিক্রি করার বিষয়ে নয়, বরং গ্রাহক সমস্যা সমাধানের বিষয়ের (সলভিং কেমিস্ট্রি প্রবলেম) সঙ্গে সম্পর্কিত।
আরও পড়ুন: মাত্র ১৩ দিনেই ৮৮ শতাংশ বাড়ল দাম! শেয়ার বাজারে ঝড় তুলেছে এই স্টক
বিদেশি কোম্পানি অধিগ্রহণের বিষয়ে পরামর্শ: রিপোর্টে সুপারিশ করা হয়েছে যে, ভারতীয় কোম্পানিগুলির এখন ইউরোপ এবং জাপানের মাঝারি আকারের কোম্পানিগুলি, বিশেষ করে পারিবারিক মালিকানাধীন কোম্পানিগুলি অধিগ্রহণের কথা বিবেচনা করা উচিত। এটি তাদের তৈরি প্রযুক্তি থেকে শুরু করে ব্র্যান্ড এবং নতুন বাজারে অ্যাক্সেস প্রদান করবে। এদিকে, BCG ইন্ডিয়ার পার্টনার অমিতা পারেখও জোর দিয়ে বলেন যে মার্জিন বাড়ানোর জন্য ডিজিটাল এবং AI ব্যবহার এখন আর বিকল্প নয় বরং প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতে যেভাবে বিউটি, পার্সোনাল কেয়ার এবং কনস্ট্রাকশন সেক্টরে ডিমান্ড বাড়ছে (যেমন অ্যাডভান্স ওয়াটারপ্রুফিং বা পারফরম্যান্স কোটিং) তাতে দেশীয় কোম্পানিগুলিকে ভারতের অভ্যন্তরে তাদের সাপ্লাই চেন শক্তিশালী করতে হবে।












