বাংলা হান্ট ডেস্ক: গত শুক্রবার, শেয়ার বাজারে পতনের আবহেই আদানি গ্রুপের কোম্পানি অম্বুজা সিমেন্টসের শেয়ারে বিক্রির প্রবণতা দেখা গেছে। সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং দিনে, BSE-তে শেয়ারটির দাম ২.৫৮ শতাংশ কমে ৫১৯.৩০ টাকায় বন্ধ হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা শেয়ারটির প্রতি আশাবাদী।
শেয়ার বাজারে (Share Market) আদানি গ্রুপের এই কোম্পানির স্টক তুলতে পারে ঝড়:
কী জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা: ইতিমধ্যেই ব্রোকারেজ প্রভুদাস লীলাধর এই শেয়ারের ক্ষেত্রে ক্রয়ের সুপারিশ করেছে। ওই ব্রোকারেজ আশা করছে যে শেয়ারটির দাম ৬৪০ টাকায় পৌঁছাবে। জানিয়ে রাখি যে, অম্বুজা সিমেন্টের শেয়ারের ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ মূল্য হল ৬২৫ টাকা। তবে, টার্গেট প্রাইস আগের ৬৬৭ টাকা থেকে কমিয়ে ৬৪০ টাকা করা হয়েছে। ব্রোকারেজ আশা করছে যে, ২০২৫-২৮ অর্থবর্ষের মধ্যে অম্বুজা সিমেন্টের ভলিউম এবং EBITDA ১৩ শতাংশ এবং CAGR ২৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে।

ত্রৈমাসিক ফলাফল: জানিয়ে রাখি যে, আদানি গ্রুপের কোম্পানি অম্বুজা সিমেন্ট লিমিটেড ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে মুনাফা ৮৬.২১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৩৬৬.৯৭ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। যা গত বছরের একই ত্রৈমাসিকে কর সুবিধার কারণে উচ্চতর ভিত্তির কারণে ঘটেছিল। অম্বুজা সিমেন্ট লিমিটেড (ACL) গত আর্থিক বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে ২,৬৬২.৯৭ কোটি টাকার মুনাফা করেছে। অম্বুজা সিমেন্ট লিমিটেড এবং তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ACC হাইকোর্ট থেকে একটি অনুকূল আদেশ পেয়েছে। এর পর তারা ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিম তাদের কর দায় পুনর্মূল্যায়ন করে।
আরও পড়ুন: ৯৯ শতাংশ বাজারে লাগবে না শুল্ক! কবে থেকে লাগু ভারত-ব্রিটেন ট্রেড ডিল? মিলল বড় আপডেট
জানিয়ে রাখি যে, ACL এবং ACC-এর অ্যাকাউন্টে যথাক্রমে ১,১৭৯.৭১ কোটি টাকা এবং ৫১৬.৮৪ কোটি টাকা জমা ছিল। সম্প্রতি, স্টক এক্সচেঞ্জগুলিকে পাঠানো এক বার্তায়, কোম্পানিটি জানিয়েছে যে ৫ অগাস্ট ২০২৪ তারিখে আয়কর কমিশনার (আপিল) থেকে অনুকূল সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর ACL ২০৩.১৭ কোটি টাকা নগদ ফেরত এবং ২৫.৬০ কোটি টাকা সুদ পেয়েছে। এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে ACL-এর সংযুক্ত পরিচালন রেভিনিউ ছিল ১০,১৮০.৫২ কোটি টাকা। যা এক বছর আগের রেকর্ড করা ৮,৪৯৮.১০ কোটি টাকার তুলনায় ১৯.৮ শতাংশ বেশি।
আরও পড়ুন: কোটিপতি পাত্রী! কার সঙ্গে বিবাহ ঈশান কিষাণের? ‘ফাঁস’ করলেন তারকা ক্রিকেটারের ঠাকুরদা
কোম্পানির লক্ষ্য: উল্লেখ্য যে, অম্বুজা সিমেন্টের পূর্ণকালীন ডাইরেক্টর বিনোদ ভাটিয়ার মতে, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে কোম্পানিটি একটি নতুন ত্রৈমাসিক বিক্রয় রেকর্ড স্থাপন করেছে। প্রিমিয়াম সিমেন্টের বিক্রি বেড়েছে। যার ফলে কর্মক্ষমতা উন্নত হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, কোম্পানিটি মূলত বিদ্যুতের খরচ কমাতে কাজ করছে। অর্থাৎ, গ্রিন এনার্জির ব্যবহার এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যও কাজ করছে। কোম্পানির লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে প্রতি টন খরচ ৩,৬৫০ টাকায় কমিয়ে আনা। উল্লেখ্য যে, চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ব্যয় বার্ষিক ভিত্তিতে ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই ত্রৈমাসিকে কোম্পানির বাজার অংশীদারিত্ব ছিল ১৬.৬ শতাংশ। এদিকে, প্রিমিয়াম সিমেন্ট বিভাগের বাজার অংশীদারিত্ব ৩৫ শতাংশ।
সতর্কীকরণ: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকির। তাই, বিনিয়োগের আগে অবশ্যই অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণ করুন।












