বাংলা হান্ট ডেস্ক : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে জমে উঠেছে রাজনৈতিক লড়াই। এই আবহেই সোনারপুর উত্তর ও দক্ষিণ কেন্দ্রের তৃণমূল (Trinamool Congress) প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সভামঞ্চ থেকে তিনি যেমন দলীয় প্রার্থীদের হয়ে সমর্থন চাইলেন, তেমনই তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন বিজেপির বিরুদ্ধে।
লাভলি মৈত্রকে নিয়ে মমতা (Mamata Banerjee)
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সোনারপুর উত্তরের প্রার্থী ফিরদৌসি বেগম এবং সোনারপুর দক্ষিণের প্রার্থী লাভলি মৈত্রের সমর্থনে প্রচারে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সোনারপুর আমার সোনার খনি। আমার জীবনে অনেক দিন এই সোনারপুর মাটিতে কেটেছে। আমি ৬ বার নির্বাচিত হয়েছি সোনারপুর এর মাটি থেকে। এটা তৃণমূল কংগ্রেস এর কর্মভূমি, জন্মভূমি। তাই সোনারপুর স্পোর্টিং ক্লাব এ আমি আসি।”
বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো সুর চড়ান। বলেন, “অনেক অত্যাচার সহ্য করছি বিজেপির। বিজেপি যখন নেমেছে সারা দেশের সরকার, সারা দেশের পুলিশ, সারা দেশের এজেন্সি লাগিয়েছে। দিল্লি থেকে এল মোটা ভাই সঙ্গে এল ইডি, সিবিআই। বিজেপির পরিবার দেখে দেখে নিয়ে আসছে অবজার্ভার নিয়ে। বলছে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার করো, গাঁজা কেস দাও। ২ লক্ষ পুলিশ ফোর্সকে নিয়ে আসতে হয়েছে। সব বহিরাগত? কেন হিম্মত নেই ?”
এদিন সোনারপুর প্রচার সভায় নতুন প্রার্থী লাভলি মৈত্রের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মুখ্যমন্ত্রী। লাভলির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “লাভলি টিভিতে কাজ করেন। এলাকাও করে। নতুন যারা হয়, নতুন বাড়িতে ঢুকতে একটু ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। আমার কি ভুল হয়নি? পরে সেটা শুধরে নেওয়ার সময় দিন। ও পার্টির খুব অনুগত। আমি দেখেছি, বিধানসভায় লাভলি এবং ফিরদৌসি প্রতিটা অধিবেশনে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত থাকে। তখন ও সিরিয়াল বাদ দিয়ে এই কাজটা করে। মানুষের কাজ করা বড় কাজ।”
বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “বাংলা ভাষায় কথা বললেই এখানে নাকি অনুপ্রবেশকারীদের কারখানা। বর্ডার কার হাতে? কেন্দ্রের হাতে। তৃণমূল যদি চোর হয় তাহলে তুমি সুপার ডাকাত। রেল বাজেট উঠিয়ে দিয়েছেন। বাংলা ভাষায় কথা বললে বিহার, উত্তর প্রদেশ, ওড়িশায় অত্যাচার হয় কেন?”

আরও পড়ুন : সাতসকালে ইডির থাবা, কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনুর বাড়িতে চলছে তল্লাশি
এর পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “বিজেপি রাজ্যে মাছ-মাংস বন্ধ করেছ কেন? মাছে ভাতে বাঙালি এটা তাদের সঙ্গে থাকবে। তোমরা কারা? বহিরাগতদের কারখানা এখানে বাংলা করতে দেবে না। ২০২৫-এ যারা এসেছেন তাদের কেন ভোটাধিকার দিচ্ছেন? যে ৩২ লক্ষ তুলে দিয়েছি তার মধ্যে শুনছি ভানিস কুমার বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। বহিরাগতরা আমাদের সঙ্গে পারবে না। এবারও দুরন্ত খেলা হবে।” সোনারপুরের মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সুরে জানান, এবারও জয় ছিনিয়ে আনতে প্রস্তুত তৃণমূল।













