বাংলাহান্ট ডেস্ক: ওড়িশা সরকার গুটখা ও অন্যান্য তামাকজাত পানমশলার উৎপাদন, মজুত ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যে গুটখা বা যে কোনো খাদ্যপণ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তামাক ব্যবহার করা যাবে না এবং নিকোটিনযুক্ত খাবার উৎপাদন বা বিক্রিও নিষিদ্ধ হবে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা থেকে বিড়ি ও সিগারেটকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ওড়িশায় গুটখা ও তামাকজাত পণ্যে (Tobacco Banned) নিষেধাজ্ঞা জারি
২০১১ সালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পর থেকেই বিভিন্ন রাজ্যে গুটখা নিষিদ্ধ হলেও, বিকল্প উপায়ে এর ব্যবহার অব্যাহত ছিল। দোকানগুলো আলাদাভাবে মশলা ও জর্দা বিক্রি করত এবং ক্রেতারা সেগুলি মিশিয়ে নিজেরাই গুটখার মতো পণ্য তৈরি করে নিতেন। ওড়িশাতেও এই ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা রোধ করতেই নতুন কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে মশলা ও জর্দা আলাদাভাবে বিক্রিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পিএম কিষাণ স্ট্যাটাসে বড় বদল! কবে ঢুকবে ২০০০ টাকার পরবর্তী কিস্তি? জানুন এখনই
সরকারের দাবি, জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্যই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে। তবে বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশ এই সিদ্ধান্তে ‘দ্বিচারিতা’র সমালোচনা করেছেন। তাদের প্রশ্ন, তামাকের কোনো রূপই নিরাপদ নয়; সেক্ষেত্রে গুটখা নিষিদ্ধ করে বিড়ি ও সিগারেটকে ছাড় দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত?
এই দ্বৈতনীতির পেছনে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে রাজস্ব আয়ের বিষয়টি চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিড়ি ও সিগারেটের উপর আরোপিত উচ্চ কর থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার উভয়েই বিপুল রাজস্ব পায়। এই আয়ের প্রবাহ বন্ধ করতে না চাওয়াই বিড়ি-সিগারেটকে নিষেধের বাইরে রাখার পেছনে একটি বড় কারণ হতে পারে বলে অনুমান করছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া, অ্যালকোহলের উপরও কোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা না আসায় জনস্বাস্থ্য বনাম রাজস্ব আয়ের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়েছে।

আরও পড়ুন: ১৬ বছরের নীচে ‘নো ইন্টারনেট’, সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে রাজ্য সরকার
সর্বোপরি, ওড়িশার এই সিদ্ধান্ত তামাক নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ, যদিও আংশিক, পদক্ষেপ। এর সাফল্য নির্ভর করবে আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং বাজার থেকে নিষিদ্ধ পণ্য উচ্ছেদে প্রশাসনের কার্যকারিতার উপর। তবে বিড়ি ও সিগারেটকে বাদ দেওয়ায় তামাকবিরোধী অভিযানের সামগ্রিক কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।













