বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অন্দরে ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে ক্ষমতার লড়াই। বিধানসভায় নতুন ব্লক গঠনের পর এবার বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে দলের বিপুল আর্থিক তহবিল। সেই অর্থের ভবিষ্যৎ মালিকানা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক ও আইনি সংঘাত।
তৃণমূলের (Trinamool Congress) আর্থিক তহবিল কার হাতে ?
দলীয় মহলের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বর্তমানে প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকা জমা রয়েছে। সূত্রের খবর, নতুন ব্লকের নেতারা ভবিষ্যতে এই অর্থের উপর অধিকার দাবি করতে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিকল্প উপায় খুঁজতে শুরু করে। অভিযোগ, তহবিলকে সম্ভাব্য আইনি জটিলতা থেকে দূরে রাখতে সাময়িকভাবে অন্য একটি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সংগঠনের অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তরের ভাবনা-চিন্তা চলছিল। তবে সেই পরিকল্পনা গোপন রাখা সম্ভব হয়নি।
কীভাবে বিষয়টি বাইরে এল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা থাকলেও খবর দ্রুত পৌঁছে যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের নেতৃত্বাধীন নতুন ব্লকের কাছে। এরপরই তাঁরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন। সূত্রের দাবি, কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, ব্যাঙ্কে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়ে সমস্ত আর্থিক লেনদেন অবিলম্বে স্থগিত রাখতে হবে। অন্যথায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।
এরপর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান অরূপ বিশ্বাস। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, দলের অভ্যন্তরে বর্তমানে গুরুতর মতবিরোধ ও নেতৃত্বসংক্রান্ত বিরোধ চলছে। ভবিষ্যতে দলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কোন পক্ষের হাতে থাকবে কিংবা নির্বাচনী প্রতীক কারা পাবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এই পরিস্থিতিতে দলীয় অর্থ সুরক্ষিত রাখার স্বার্থে সমস্ত ধরনের লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এই চিঠির জেরে তৃণমূলের ৫৩৪ কোটি টাকার তহবিল কার্যত অচল অবস্থায় চলে যেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অরূপ বিশ্বাসের এই ভূমিকা নিয়েই নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। দলের একাংশের ধারণা, তিনি হয়তো নতুন ব্লকের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তাঁদের পরামর্শ মেনেই ব্যাঙ্কে ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ মনে করছে।

আরও পড়ুন : ঋতব্রত না শোভনদেব, বিরোধী দলনেতা কে? জানিয়ে দিল হাইকোর্ট
ফলে সম্ভাব্য অর্থ স্থানান্তরের পরিকল্পনাও থমকে গেছে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে শীঘ্রই থানায় এফআইআর দায়ের হতে পারে। সেই প্রক্রিয়া শুরু হলে তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বের পর এবার আর্থিক তহবিল নিয়েও সংঘর্ষ তীব্র হওয়ায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই বিরোধ কোন পথে এগোয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

















