বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোটের আবহে (West Bengal Assembly Election) উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। তার মাঝেই মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) জঙ্গিপুরে ইভিএম স্ট্রংরুমকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে ওঠা নানা প্রশ্ন ও অভিযোগের জবাব দিতে অবশেষে প্রকাশ্যে এলেন তৃণমূল নেতা বায়রন বিশ্বাস (Byron Biswas)।
কী বললেন বায়রন (Byron Biswas) ?
শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও বার্তা দেন বায়রন। সেখানে স্পষ্ট করে জানান, তিনি কোনও আতঙ্ক থেকে নয়, বরং অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই স্ট্রংরুমে গিয়েছিলেন। পূর্বে তার মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন,”হাইপার হয়ে কিছু কথা বলেছিলাম।” যদিও এদিন তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ২০০-রও বেশি আসন দখল করবে।
উল্লেখ্য, প্রথম দফার ভোট মিটতেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতেই শনিবার ভোররাতে জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজের স্ট্রংরুমের সামনে বায়রন বিশ্বাসের উপস্থিতি ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, তিনি সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
এই অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল নেতা। তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে সোশ্যাল মিডিয়া বেছে নেন। বায়রন জানান, রাতে প্রথমবার স্ট্রংরুমে গিয়ে তিনি দেখতে পান, ভেতরে সিসিটিভি থাকলেও বাইরে তা দেখার জন্য কোনও ডিসপ্লে নেই। বিষয়টি তিনি প্রশাসনকে জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে রাতে একাধিকবার সিসিটিভি পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায় বলেও অভিযোগ তার। সেই কারণেই তিনি আবার ভোরে সেখানে যান। এদিকে, নির্বাচন কমিশনের বিধি মেনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ তাঁকে স্ট্রংরুমে প্রবেশ করতে দেয়নি। এর জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও নিজের ভিডিও বার্তায় বায়রন দাবি করেন, “আমি লড়েছি, লড়ে যাব।”
প্রসঙ্গত, এর আগে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল প্রার্থীদের হারানোর চেষ্টা চলছে এবং কিছু আসনে দলের ফল খারাপ হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। সেই মন্তব্য নিয়েই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। তবে সাম্প্রতিক ভিডিওতে তিনি সেই সুর বদলে ইতিবাচক বার্তা দেন। তৃণমূলের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসের সাথে তিনি জানান, ২০০-র বেশি আসন পাওয়াই লক্ষ্য।

আরও পড়ুন : হলফনামায় নেই সম্পত্তির সঠিক হিসেব? অদিতি-দেবরাজকে ঘিরে বড় প্রশ্ন তুললেন তরুণজ্যোতি তিওয়ারি
জঙ্গিপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর এখনও থামেনি। নির্বাচন চলাকালীন এমন বিতর্ক নতুন নয়, তবে এই ঘটনাটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এখন সকলের নজর ৪ মে ফল ঘোষণার দিকে, সেই ফলই বলে দেবে এই বিতর্কের প্রভাব কতটা।

















