বাংলাহান্ট ডেস্ক: হঠাৎ করেই সাইরেনের তীব্র শব্দে কেঁপে উঠল উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh)। মুহূর্তের মধ্যে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে গেল রাজ্যের ৭৫টি জেলা। শুক্রবার সন্ধ্যায় এই অপ্রত্যাশিত ব্ল্যাকআউটে রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উদ্বেগ ও অস্বস্তি। শুরুতে বড় কোনও নাশকতা বা সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা তৈরি হলেও, পরে রাজ্য প্রশাসন স্পষ্ট করে যে, এটি ছিল জঙ্গি হামলা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি পরীক্ষার জন্য একটি মক ড্রিল।
উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh) জঙ্গি হামলা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মকড্রিল
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স, এনডিআরএফ, এডিআরএফ, ফায়ার ব্রিগেড এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের দলগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে। লখনউ, কানপুর, মিরাট, বরেলিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরের ব্যস্ত এলাকায় বাড়তি পুলিশি তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাদের কার্যকারিতা যাচাই করাই ছিল এই ব্যাপক মহড়ার মূল উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন: বছরের শুরুতেই অশনিসংকেত, ফের বিপুল পরিমাণে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে অ্যামাজন
রাজ্য প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো এড়াতে এই মহড়ার আগেই সংশ্লিষ্ট সকলকে আগাম তথ্য দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও, হাসপাতাল, রেলস্টেশন এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবাকে এই ব্ল্যাকআউটের আওতার বাইরে রাখা হয়, যাতে জনজীবনে ব্যাঘাত না ঘটে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও জরুরি পরিষেবাগুলি জেনারেটরের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে চালু রাখা সম্ভব হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।
এই মহড়া পরিচালিত হয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরাসরি নির্দেশে এবং রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ধাপে ধাপে সমস্ত জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়। সরকারি বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সময়মতো ব্ল্যাকআউট কার্যকর করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় সাধন—সব মিলিয়ে এই অনুশীলন সফল হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রজাতন্ত্র দিবসে নাশকতার আশঙ্কা, এআই সানগ্লাসে সন্দেহভাজন ধরবে দিল্লি পুলিশ
প্রশাসন ব্যাখ্যা করেছে যে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি, সম্ভাব্য বিমান বা ড্রোন হামলার মতো সংকটে নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ব্ল্যাকআউট পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। শহরের আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়, যাতে শত্রুপক্ষ লক্ষ্য নির্ধারণে অসুবিধার সম্মুখীন হয়। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে বা নিজ গৃহের ভিতরেই থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। শুক্রবারের এই মক ড্রিলের মাধ্যমে সেসব চরম জরুরি পরিস্থিতির জন্য উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন ও জনগণ কতটা প্রস্তুত, তা-ই মূলত পরখ করে দেখা হয়েছে।












