বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিশ্ব বিনিয়োগের মানচিত্রে নিজের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh)। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৫৬তম ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের নেতৃত্বাধীন রাজ্য প্রায় তিন লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করতে পেরেছে। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী সুরেশ কুমার খান্না মঙ্গলবার লখনউতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দাভোসে রাজ্যের সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করেছে।
দাভোসের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে বাজিমাত উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh)!
গত ১৯ থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সম্মেলনে উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধিদল মোট ১১৯টি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেয়। বিশ্বের প্রথম সারির প্রায় ৫৬টি কোম্পানির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পর ৩১টি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। খান্নার দাবি, এই চুক্তিগুলির মাধ্যমে রাজ্যে আনুমানিক ২ লক্ষ ৯২ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের পথ সুগম হয়েছে, যা রাজ্যের শিল্পায়ন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: নয়া ইতিহাস! ফ্রান্সে তৈরি হচ্ছে প্রথম হিন্দু মন্দির, ভারত থেকে গেল ‘বিশেষ জিনিস’
এই সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন হল নেদারল্যান্ডস-ভিত্তিক সংস্থা ‘এএম গ্রিন’-এর সঙ্গে সম্পন্ন চুক্তি। সংস্থাটি ২০২৮ সালের মধ্যে গ্রেটার নয়ডায় ১ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত একটি অত্যাধুনিক ডেটা সেন্টার নির্মাণ করবে। একক এই প্রকল্পেই প্রায় ২ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যা রাজ্যকে দেশের ডিজিটাল পরিকাঠামো ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাবে পরিণত করবে এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি খাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ইউপিএনইডিএ-র অধিকর্তা ইন্দ্রজিৎ সিং জানান, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সৌর মডিউল নির্মাণে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে। এনটিপিসি গ্রিন এনার্জি ও আরইসি লিমিটেডের সঙ্গে গ্রিন হাইড্রোজেন ও বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদন সংক্রান্ত আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা রাজ্যের সবুজ শক্তি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনের প্রচারে সরাসরি হিন্দুদের মারার হুমকি! ইউনূসের বাংলাদেশে শিউরে ওঠার মতো অবস্থা
প্রতিরক্ষা শিল্প, লজিস্টিকস, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং বৈদ্যুতিক যান উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রেও শক্তিশালী বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি মিলেছে। উবের একটি গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার স্থাপনের আগ্রহ রয়েছে, পাশাপাশি গুগল, সিসকো ও ডেলয়েটের সঙ্গে এআই ও ডিজিটাল গভর্ন্যান্স বিষয়ক আলোচনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর মতে, উন্নত আইনশৃঙ্খলা, দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন ও নীতিগত স্থিতিশীলতাই বিনিয়োগকারীদের আর্কষণের মূল চাবিকাঠি। এই প্রস্তাবগুলির দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ ‘সিঙ্গল উইন্ডো’ টিম গঠনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।












