একটু বৃষ্টিতেই ডুবে যাওয়ার দশা! অতিষ্ঠ হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হাওড়ার বাসিন্দারা

Published on:

Published on:

Howrah Municipal Corporation Ward No 19 waterlogging problem residents moves to Calcutta High Court
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বাইরে একটু বৃষ্টি হয়েছে কি হয়নি! তাতেই জল যন্ত্রণায় (Waterlogging) একেবারে বিপর্যস্ত হাওড়ার জনজীবন। হাওড়ার পঞ্চাননতলার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের এই দুর্ভোগ কয়েকদিন, বা কয়েক মাসের নয়। বছরের পর বছর একপ্রকার বাধ্য হয়েই এই ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার হজার হাজার পরিবার। তাই এই জল যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে এবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিস্থিতির সুরাহা খুঁজতে ইতিপূর্বে অনেক কাঠখড় পুড়িয়েছেন এলাকাবাসীরা। তাই বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে পৌঁছানোর আগে হাওড়া পুরসভা, জেলাশাসক, সাংসদ, এমনকি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরেও অভিযোগ জানিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্ত পরিস্থিতির কোনো বদল না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের দরজায় হাজির হয়েছেন এলাকাবাসীরা।

হাওড়ার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাতকড়ি চ্যাটার্জি লেন, নীলমণি মল্লিক লেন এবং মধুসূদন বিশ্বাস লেনের বাসিন্দাদের অভিযোগ এখানে সামান্য বৃষ্টি হলেও জমা জল সরতে অনেকদিন সময় লেগে যায়। এলাকাবাসীদের দাবী ৪ বছর আগে অর্থাৎ সেই ২০২২ সাল থেকে এই দুর্ভোগের কথা জানিয়ে হাওড়া পৌরসভায় একাধিকবার আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্ত তারপরেও সুরাহা তো হয়নি বরং একই আছে এলাকার ছবি।

আরও পড়ুনঃ গড় মাথাপিছু আয় ৬ লক্ষ, ভারতের ধনী শহরের তালিকায় কোথায় পশ্চিমবঙ্গ? প্রকাশ্যে রিপোর্ট

জমা জলের এই দুর্ভোগ থেকে নিস্তার পেতে ইতিমধ্যেই সাতকড়ি চ্যাটার্জী লেনের বাসিন্দা পার্থ ঘোষ সহ আরও ছ’জন গত ২১মে স্থানীয় জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ২০২২ সাল থেকে একাধিকবার এইচএমসি-কে আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টে তাঁদের দাবী, বৃষ্টি হলেই বেশ কয়েকদিন দুর্গন্ধযুক্ত-নোংরা জল জমে থাকে গোটা এলাকায়।

আরও পড়ুনঃ বাংলার পাঠ্যবইতে শ্যামাপ্রসাদ, ‘তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন না’ সাংবাদিকদের জানালেন সৌগত

নোংরা পচা ওই জলের কারণে ইতোমধ্যেই এলাকাবাসীর অনেকেই চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এমনকি অনেকেই শিশুদের স্কুলে যাওয়া একপ্রকার বন্ধ করে দিয়েছেন, বয়স্ক মানুষরাও বাড়ির বাইরে বেরোতে পারছেন না। সেইসাথে ঘরে ঘরে বাড়ছে সংক্রমণ। এমনও পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে যে দিনের পর দিন এই জমা জলের দুর্ভোগ সহ্য করতে না পেরে অনেকেই নিজেদের পৈতৃক বাড়ি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন।