বাংলা হান্ট ডেস্ক : কলকাতায় জাদুঘরের কথা উঠলেই অধিকাংশ মানুষের মনে প্রথমেই আসে পার্ক স্ট্রিটের ভারতীয় জাদুঘরের নাম। অথচ শহরেরই আর এক প্রান্তে, বেহালায় বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে রাজ্য প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর। এবার সেই জাদুঘরকে প্রচারমুখী করতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার (West Bengal Government)।
বেহালা জাদুঘর নিয়ে বিরাট পরিকল্পনা রাজ্য সরকার (West Bengal Government)
বেহালা বাজার মেট্রো স্টেশনের ঠিক পাশেই অবস্থিত স্টেট আর্কিওলজিক্যাল মিউজিয়াম (রাজ্য প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা)। এখানে সংরক্ষিত রয়েছে বাংলার প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রত্ননিদর্শন, প্রাচীন পোড়ামাটির শিল্পকর্ম, পাথর ও ব্রোঞ্জের অসংখ্য ভাস্কর্য এবং ইতিহাসের নানা মূল্যবান স্মারক। ভবিষ্যতে এই সংগ্রহ আরও সমৃদ্ধ করতে বহু পুরনো নথি ও শিল্পকর্ম সংযোজনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য, ছাত্রছাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ— সকলের কাছেই এই জাদুঘরকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা। জাদুঘরটিকে আরও আধুনিক, আকর্ষণীয় ও শিক্ষামূলক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে শুরু হয়েছে পরিকল্পনা।
শিক্ষামূলক ভ্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে এই সংগ্রহশালাকে গড়ে তুলতে চাইছে নবান্ন। সেই লক্ষ্যেই স্কুলশিক্ষা দপ্তর-সহ একাধিক বিভাগের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকরা জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন। কোথায় কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন এবং কীভাবে দর্শকদের জন্য এটিকে আরও আকর্ষণীয় করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।
এক আধিকারিকের কথায়, “আগের সরকার এই যাদুঘরটিকে রক্ষণাবেক্ষণ থেকে আরও ভালোভাবে সাজিয়ে তার প্রচার করা কিছুই করেনি। যে কারণে খুব একটা মানুষজন এখানে আসেননা। এখন এবিষয়ে নজর দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বহু শতাব্দী প্রাচীন সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে এটি সকলেরই অবশ্য দ্রষ্টব্য একটি স্থান।” বর্তমানে এই জাদুঘরে প্রবেশমূল্য মাত্র ২০ টাকা। বুধবার থেকে রবিবার, সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত এটি দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।
দোতলা বিশিষ্ট এই সংগ্রহশালার নিচের তলায় রয়েছে দুটি প্রদর্শনী কক্ষ। প্রথম গ্যালারিতে জলপাইগুড়ি, ফারাক্কা এবং মুর্শিদাবাদ থেকে উদ্ধার হওয়া পোড়ামাটির শিল্পনিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। পাশাপাশি একাদশ শতকের একাধিক ভাস্কর্য এবং প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের ছবিও এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে। এছাড়াও এখানে সংরক্ষিত রয়েছে প্রথম শতাব্দীর বলে অনুমান করা একটি পোড়ামাটির মূর্তি, যা এই জাদুঘরের সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শনগুলির অন্যতম।

আরও পড়ুন : বিনামূল্যে বায়োমেট্রিক আপডেট পোস্ট অফিসে, নতুন আধার কার্ড তৈরি, নথি আপডেটের জন্য কত খরচ?
অমূল্য ঐতিহাসিক সম্পদে ভরপুর এই সংগ্রহশালা এতদিন প্রচারের অভাবে অনেকটাই আড়ালেই থেকে গিয়েছে। সেই পরিস্থিতি বদলে বেহালার রাজ্য প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরকে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতেই এবার সক্রিয় হয়েছে নবান্ন। পরিকল্পনা সফল হলে শুধু পর্যটক নয়, গবেষক, ইতিহাসপ্রেমী এবং ছাত্রছাত্রীদের কাছেও এই জাদুঘর হয়ে উঠতে পারে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র।













