বাংলা হান্ট ডেস্ক : নন্দীগ্রামের জনকল্যাণ শিবিরের মঞ্চ থেকে একাধিক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী(Suvendu Adhikari)। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ—সবকিছু নিয়েই এ দিন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদ এবং সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মন্তব্য
সরকারি সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে জাতীয় চেতনার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, যারা ‘বন্দে মাতরম’ বা জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে অনীহা প্রকাশ করেন, তাঁদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন,”কিছু মানুষ তাদের সন্তানদের টিকা দেয় না। তারা সন্তানদের সরকারি স্কুলেও ভর্তি করায় না। বরং এমন প্রতিষ্ঠানে পাঠায় যেখানে বন্দে মাতরম বা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয় না। তাহলে তারা কেন সরকারি সুবিধা পাবে? সেই কারণেই এই ফর্ম পূরণ করতে হবে।”
বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে আসা ব্যক্তিদের সরকারি সুবিধা প্রাপ্তির বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র প্রকৃত নাগরিকদের জন্য হওয়া উচিত। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “আপনারা সবাই জাতীয়তাবাদী। আপনারা নিশ্চয়ই চাইবেন না যে বাংলাদেশ থেকে কেউ এসে এখানে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করুক।”
সভা থেকে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু। বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে ভুয়ো উপভোক্তা যুক্ত করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস জনগণের টাকা লুট করেছে। বিধবা ভাতা পুরুষদের নামে দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদের ডোমকলে ৩,৫০০টি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ধরা পড়েছে। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সংখ্যালঘু বৃত্তির টাকা বিতরণ করা হয়েছে।”
একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্পগুলির অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই ৭৯ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে গিয়েছে। গ্রামীণ কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প শুরু করেছি। আগামী ১ জুলাই থেকে আপনারা ১২৫ দিনের কাজ পাবেন। এর জন্য ৮,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।”

আরও পড়ুন :জনকল্যাণ শিবিরে আয়ুষ্মান যোজনার জন্যও আবেদন, সঙ্গে অবশ্যই রাখবেন এই ৪ নথি
এ দিন সীমান্ত সুরক্ষা ও জনগণনা কর্মসূচি নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাজ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেই সভা থেকে দাবি করেন তিনি।













