বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় দুই স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে নিপা ভাইরাস (Nipah Virus) শনাক্তের ঘটনায় রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সতর্কতা জারি করেছে। শনাক্ত দু’জনই চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। করোনা মহামারির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রাজ্য প্রশাসন দ্রুত সংস্পর্শ শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যায়।
নিপা ভাইরাস (Nipah Virus) নিয়ে বার্তা দিল WHO
এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) তাদের সর্বশেষ পরামর্শে জানিয়েছে, নিপা ভাইরাসের ব্যাপক ও দ্রুত সংক্রমণের কোনো প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। সংস্থাটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্তরে এর ঝুঁকি ‘কম’ বিভাগেই রয়েছে। তাই ভ্রমণ বা বাণিজ্যে কোনো বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও পরিস্থিতি অবিরত নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বাবার কবরের মাটি এনে প্রমাণ দাখিল, এসআইআর এর শুনানিতে প্রৌঢ়ের কাণ্ডে স্তম্ভিত সবাই
ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডিসি) স্পষ্ট করে বলেছে, ঘটনাটিকে এখনই কোনো বড় প্রাদুর্ভাব হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। সংক্রমণ মূলত কেরলের কয়েকটি জেলাতেই সীমাবদ্ধ এবং সেখানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলি যৌথভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সাধারণ জনগণকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিপা একটি জুনোটিক ভাইরাস, যা প্রাণী (বিশেষ করে বাদুড়) থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। দূষিত খাবার বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি সংক্রমিত হতে পারে। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ বিরল এবং সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমেই ঘটে থাকে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রাথমিকভাবে জ্বর, মাথাব্যথা, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, যা পরে মারাত্মক স্নায়বিক জটিলতায় রূপ নিতে পারে।

আরও পড়ুন: উদ্ধার হল অজিত পাওয়ারের দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের ব্ল্যাক বক্স! তদন্ত শুরু AAIB-র
বর্তমানে নিপা ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট টিকা বা চিকিৎসা নেই, তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর পন্থা। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শ হলো, বাদুড়ের সংস্পর্শে আসা ফল খাওয়া এড়ানো, ভালোভাবে ফল ধোয়া, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ও জনসচেতনতাই এই ভাইরাসের বিস্তার রোধের মূল চাবিকাঠি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।












