বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতে মুদ্রা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্যান্য বহু উন্নত দেশের মতো এবার ভারতেও চালু হতে পারে ‘পলিমার’ বা প্লাস্টিকের নোট (Plastic Notes)। দীর্ঘদিন ধরেই এই বিষয়ে আলোচনা চলছিল। সম্প্রতি ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) জানিয়ে দিয়েছে, পলিমার নোট চালুর প্রস্তাব বর্তমানে তাদের বিবেচনাধীন রয়েছে। যদিও এখনও এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে সক্রিয়ভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়েছেন, নোটের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি, নিরাপত্তা জোরদার এবং জাল নোট রোধের মতো বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবদিক পর্যালোচনার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ভারতে কবে থেকে চালু হচ্ছে প্লাস্টিকের নোট (Plastic Notes)?
পলিমার নোট আসলে সাধারণ কাগজের নোটের মতো নয়। বর্তমানে ভারতে যে নোটগুলি প্রচলিত রয়েছে, সেগুলি মূলত তুলা ও লিনেনের বিশেষ মিশ্রণে তৈরি হয়। কিন্তু পলিমার নোট তৈরি হয় এক ধরনের বিশেষ প্লাস্টিক ফিল্ম দিয়ে, যা অনেক বেশি টেকসই এবং দীর্ঘস্থায়ী। এই নোট সহজে ছিঁড়ে যায় না, জলে ভিজলেও নষ্ট হয় না এবং বারবার ব্যবহারেও তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় থাকে। এমনকি ভুলবশত ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে ফেললেও এই নোটের গঠন বা ছাপার কোনও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয় না। ফলে দীর্ঘমেয়াদে নোট পরিবর্তনের প্রয়োজন কমে যায় এবং মুদ্রা ছাপানোর ব্যয়ও অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয় (Plastic Notes)।
আরও পড়ুন:টেট নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটুক, মিছিল থেকে দুই সরকারের কাছে বড় দাবি একাধিক শিক্ষক সংগঠনের
ভারতে পলিমার নোট চালুর ভাবনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে জানিয়েছিল যে পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি শহরে ১০ টাকার পলিমার নোট চালু করা হবে। এই প্রকল্পের জন্য কোচি, মহীশূর, জয়পুর, শিমলা এবং ভুবনেশ্বরকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল নতুন ধরনের নোটের কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা। তবে প্রযুক্তিগত সমস্যা, উৎপাদন সংক্রান্ত জটিলতা এবং পরিচালনগত কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আবারও সেই পরিকল্পনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিমার নোটের অন্যতম বড় সুবিধা হল এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই নোটগুলিতে বিশেষ ধরনের স্বচ্ছ উইন্ডো, জটিল নকশা এবং উন্নত সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য সংযোজন করা যায়, যা জাল নোট তৈরি করা অনেক বেশি কঠিন করে তোলে। পলিমার নোট তৈরিতে মূলত ‘বাইঅ্যাক্সিয়ালি ওরিয়েন্টেড পলিপ্রোপিলিন’ বা বিওপিপি (BOPP) ব্যবহার করা হয়। এটি সাধারণ প্লাস্টিকের মতো মোটা বা শক্ত নয়, বরং কাগজের মতো পাতলা ও নমনীয়। এর উপর একটি বিশেষ আবরণ দেওয়া থাকে, যা কালিকে স্থায়ীভাবে ধরে রাখে এবং ছাপাকে দীর্ঘদিন অক্ষত রাখে। তাপ, আর্দ্রতা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রভাবেও এই নোট সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

আরও পড়ুন:পরমাণু নীতিতে ঐতিহাসিক বদল ভারতের! প্রথমবার মোতায়েন ১২ টি ‘রেডি টু ওয়ার’ পারমাণবিক অস্ত্র
বিশ্বের বহু দেশ ইতিমধ্যেই প্লাস্টিক নোট (Plastic Notes) ব্যবস্থার সুবিধা গ্রহণ করছে। অস্ট্রেলিয়া প্রথম এই প্রযুক্তির নোট চালু করেছিল। পরে কানাডা, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ব্রিটেনসহ একাধিক দেশ একই পথে হেঁটেছে। এসব দেশে পলিমার নোটের সফল ব্যবহার মুদ্রা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করেছে। ভারতও এখন সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য নতুন পদক্ষেপের কথা ভাবছে। যদি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক শেষ পর্যন্ত সবুজ সংকেত দেয়, তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ভারতীয়দের হাতে পৌঁছে যেতে পারে নতুন প্রজন্মের পলিমার নোট, যা দেশের মুদ্রা ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে।













