বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের (India) প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে (Indian Defence System) রুশ প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দিল মস্কো। পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান সুখোই এসইউ-৫৭ নিয়ে আলোচনার পর এ বার ভারতীয় সেনার (Indian Army) জন্য অত্যাধুনিক টি-১৪ আর্মাডা ট্যাঙ্ক তৈরির প্রস্তাব সামনে এসেছে। প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সামরিক সরঞ্জাম নির্মাতা সংস্থা উরালভাগনজ়াভোড ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় ভারতে এই ট্যাঙ্কের যৌথ উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। ভারতীয় সেনার ভবিষ্যতের প্রধান যুদ্ধট্যাঙ্কের চাহিদাকে সামনে রেখেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে খবর। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।
ভারতেই (India) তৈরি হবে রাশিয়ার ‘দানব’ ট্যাঙ্ক T-14 আর্মাডা?
ভারতীয় (India) সেনার হাতে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি টি-৭২ ট্যাঙ্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এই ট্যাঙ্কগুলির আধুনিকীকরণ এবং ভবিষ্যতে সেগুলির জায়গায় উন্নত যুদ্ধযান আনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে টি-১৪ আর্মাডাকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে রাশিয়া। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলিতে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় সেনার ‘নেক্সট জেনারেশন মেন ব্যাটল ট্যাঙ্ক’ বা ভবিষ্যতের যুদ্ধট্যাঙ্ক সংক্রান্ত পরিকল্পনাকে লক্ষ্য করেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ‘ফিউচার রেডি কমব্যাট ভেহিকল’ নামেও পরিচিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রের উপযোগী আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ট্যাঙ্ক তৈরি করা। তবে টি-১৪-ই শেষ পর্যন্ত ভারতের পছন্দ হবে কি না, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন, খরচ এবং সেনার প্রয়োজনের উপর।
আরও পড়ুন: ভারতে এখন ভিক্ষুকের সংখ্যা কত? ২১৬ শহর থেকে মিলল রিপোর্ট
প্রস্তাবিত যৌথ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারতীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ টি-১৪ ট্যাঙ্কের মূল নকশায় ব্যবহৃত ১২এন৩৬০ ইঞ্জিনের পরিবর্তে ভারতে তৈরি ট্যাঙ্কে যৌথ প্রযুক্তিতে নির্মিত ডট্রন-১৫০০ ইঞ্জিন ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও-র অধীনস্থ কমব্যাট ভেহিকলস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্টের তৈরি সেন্সর এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ বাড়তে পারে এবং দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহারও উৎসাহ পেতে পারে। তবে ইঞ্জিন ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংক্রান্ত এই বিবরণগুলি প্রস্তাবের বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদননির্ভর; চূড়ান্ত নকশা বা উৎপাদন পরিকল্পনা হিসেবে এগুলিকে এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ট্যাঙ্ক উৎপাদনের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে ভারতীয় সেনা রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি টি-৫৫ ট্যাঙ্ক ব্যবহার করেছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৯ সাল থেকে টি-৭২ ট্যাঙ্ক কেনা শুরু হয়। আশির দশকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে চেন্নাইয়ের আভাডিতে হেভি ভেহিকলস ফ্যাক্টরিতে এই ট্যাঙ্কের উৎপাদনও শুরু হয়েছিল। পরে ভারত রাশিয়া থেকে টি-৯০ ট্যাঙ্ক কেনে এবং যৌথ উৎপাদনের মাধ্যমে তার উন্নত সংস্করণ টি-৯০ ভীষ্ম তৈরি করে। ফলে রুশ সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং দেশীয় কারখানায় যুদ্ধযান নির্মাণের ক্ষেত্রে ভারতের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন প্রজন্মের ট্যাঙ্ক তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হতে পারে।

আরও পড়ুন: নেই জেলে যাওয়ার ভয়! গ্রেফতার হতে পারেন জেনেও ফের প্রতিবাদের আহ্বান CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিতের
স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি আকাশপথের প্রতিরক্ষা নিয়েও ভারত-রাশিয়া সহযোগিতার আলোচনা চলছে। এর আগে রাশিয়া ভারতকে (India) সুখোই এসইউ-৫৭ই যুদ্ধবিমানের যৌথ উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। যুদ্ধবিমানের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও সোর্স কোড হস্তান্তরের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছিল। ভারতীয় বায়ুসেনার মিগ-২১, মিগ-২৭, মিগ-২৯ এবং সুখোই-৩০-এর মতো রুশ প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান ব্যবহারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। অন্যদিকে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশেই উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। তাই টি-১৪ আর্মাডা নিয়ে রাশিয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায় খুলতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে প্রযুক্তি হস্তান্তরের শর্ত, উৎপাদন খরচ এবং ভারতীয় সেনার প্রয়োজনের সঙ্গে ট্যাঙ্কটির সামঞ্জস্য খতিয়ে দেখা জরুরি ।














