বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক রদবদল চলছে জোরকদমে। এবার সেই তালিকায় আরও বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন।একসঙ্গে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ রেঞ্জের DIG-কে সরিয়ে (DIG Transfer) নতুন করে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত এই বদল কার্যকর করতে সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে কমিশন।
কোন কোন রেঞ্জের DIG-কে একসঙ্গে বদলি করল কমিশন (DIG Transfer)?
প্রেসিডেন্সি, জলপাইগুড়ি, রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ এবং বর্ধমান, এই পাঁচটি রেঞ্জের DIG-কে একসঙ্গে বদলি (DIG Transfer) করা হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, অবিলম্বে এই রদবদল কার্যকর করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। নতুন করে যাঁরা দায়িত্বে আসছেন তাঁদের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। রাঠৌর অমিতকুমার ভারতকে রায়গঞ্জ রেঞ্জের DIG করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের DIG হচ্ছেন অজিত সিং যাদব। বর্ধমানের দায়িত্বে শ্রীহরি পাণ্ডে, প্রেসিডেন্সি রেঞ্জে কঙ্কর প্রসাদ বারুই এবং জলপাইগুড়ি রেঞ্জে অঞ্জলি সিংকে বসানো হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১৯ মার্চ সকাল ১১টার মধ্যে এই পাঁচজন আধিকারিককে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, ১৫ মার্চ ভোট ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক বড় রদবদল শুরু হয়েছে রাজ্যে। সেদিন রাতেই মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরানো হয়। পরের দিন ১৬ মার্চ রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, এডিজি আইনশৃঙ্খলা এবং ডিজি (কারা) পদেও বদল আনা হয়। ১৭ মার্চ উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের এডিজি বদল করার পাশাপাশি চারজন পুলিশ কমিশনার এবং ১২ জন পুলিশ সুপারকেও বদলি করা হয়। তার পরদিনই আবার DIG স্তরে এই বড় পরিবর্তন (DIG Transfer) করা হল।
ভোটের আগে এত ঘন ঘন রদবদলকে নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাধারণত ভোট ঘোষণার পর IAS ও IPS অফিসারদের বদলি নতুন কিছু নয়, তবে এভাবে ধারাবাহিকভাবে বড় পদে ‘স্ট্রাইক’ খুব একটা দেখা যায় না। এই বিষয়টি নিয়ে প্রথম থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে অভিযোগ করেন, রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করেই একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পরিপন্থী।

আরও পড়ুনঃ আর বাড়তি টাকা নয়! বিমানে নিজের পছন্দের সিট বাছাইয়ে নতুন নিয়ম জারি করল মোদী সরকার
মঙ্গলবার কালীঘাটে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার দিনও তিনি এই ইস্যুতে সরব হন। তাঁর দাবি, বিজেপি জিততে না পারার আশঙ্কায় এই ধরনের বদলি করা হচ্ছে। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটাই, ভয়মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করানো এবং নির্ভুল ভোটার তালিকা নিশ্চিত করা। এই সিদ্ধান্তে (DIG Transfer) বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই বলেই দাবি করেছেন তিনি।












