বাংলাহান্ট ডেস্ক: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Union Home Ministry) বুধবার দুই আধাসামরিক বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র শীর্ষপদে গুরুত্বপূর্ণ রদবদলের ঘোষণা করেছে। এদিন জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, প্রশাসনিক স্বার্থে এই বদল আনা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই রদবদল দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসদমন ব্যবস্থাপনায় নতুন গতি আনবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (Union Home Ministry) নির্দেশে BSF, ITBP এবং NIA-র শীর্ষপদে বড় রদবদল:
নির্দেশিকা অনুযায়ী, ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ বা আইটিবিপি-র বর্তমান ডিরেক্টর জেনারেল প্রবীণ কুমারকে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী বিএসএফ-এর নতুন ডিজি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। ১৯৯৩ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার প্রবীণ কুমার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। আইটিবিপি-র প্রধান হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই এবার তাঁকে দেশের অন্যতম বৃহৎ আধাসামরিক বাহিনী বিএসএফ-এর নেতৃত্বে আনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রবীণ কুমারের পরিবর্তে আইটিবিপি-র নতুন ডিরেক্টর জেনারেল হচ্ছেন শত্রুজিৎ সিংহ কপূর। তিনিও একজন অভিজ্ঞ আইপিএস আধিকারিক এবং এর আগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের দায়িত্ব পালন করেছেন। চিন সীমান্তে আইটিবিপি-র ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, তাঁর নেতৃত্বে বাহিনীর কার্যকারিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দুশোর বেশি তদন্তকারী অফিসার! ভোটের আগেই বড় কিছু ঘটার ইঙ্গিত? দলে দলে ইডি-সিবিআই ঢুকছে রাজ্যে
একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ-র শীর্ষপদেও বদল আনা হয়েছে। বুধবারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাকেশ আগরওয়ালকে এনআইএ-র নতুন ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ, সংগঠিত অপরাধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলার তদন্তে এনআইএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। নতুন ডিজির নেতৃত্বে সংস্থার কাজ আরও তৎপর হবে বলেই ধারণা।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, এই রদবদল কেবল রুটিন বদলি নয়, বরং সীমান্ত সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। বিএসএফ, আইটিবিপি এবং এনআইএ—এই তিনটি সংস্থাই দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ফলে নতুন নেতৃত্বে এই বাহিনী ও সংস্থাগুলির কাজকর্ম কীভাবে আরও কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে গোটা দেশের।













