বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba Terrorist) জম্মু ও কাশ্মীরে পুনরায় সহিংসতা উস্কে দিতে প্রকাশ্য উত্তেজনামূলক বক্তব্য দিচ্ছে। সংগঠনের সিনিয়র কমান্ডার আবু মুসা কাশ্মীরি সম্প্রতি পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের পুঞ্চ এলাকায় এক সভায় হিন্দুদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক হুমকি দিয়ে ঘৃণামূলক ভাষণ দিয়েছে। তিনি ঘোষণা করেন, কাশ্মীর সমস্যার কোনো রাজনৈতিক সমাধান নেই এবং কেবল ‘জিহাদ’-এর মাধ্যমেই স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব, যা এই গোষ্ঠীর সন্ত্রাসবাদী মনোভাবকে ফের উন্মোচিত করেছে।
ফের ‘জিহাদ’-এর ডাক লস্করের (Lashkar-e-Taiba Terrorist) সিনিয়র কমান্ডারের:
এই ঘটনার সমান্তরালে লস্কর-ই-তৈবার ডেপুটি চিফ ও পহেলগাঁও হামলার মূল মাথা সাইফুল্লাহ কাসুরির একটি ভাইরাল ভিডিও তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে কাসুরি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে সংগঠনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্বীকার করে এবং দাবি করে যে পাক সেনার এক জওয়ানের জানাজায় তাকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এই দাবি ভারতের দীর্ঘকালের অভিযোগকে শক্তিশালী করে যে পাকিস্তানি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলিকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন ও প্রশিক্ষণ দেয়।
আরও পড়ুন: ভারতীয়দের জন্য ছাড়! ৭৫ টি দেশের নাগরিকদের ভিসা দেবে না আমেরিকা, তালিকায় বাংলাদেশ-পাকিস্তান
ভারতের গোয়েন্দা সূত্রগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে, অপারেশন সিঁদুরের পর লস্কর ও জইশ-ই-মহম্মদের মতো সংগঠনগুলি জম্মু ও কাশ্মীরে নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘাঁটিগুলি পুনর্গঠন করছে। পহেলগাঁও হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় লস্কর-ই-তৈবার সাথে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সমন্বয়ের অভিযোগ ভারত দীর্ঘদিন ধরে তুলে এসেছে, যা ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময়ের সহযোগিতার ধারাবাহিকতাকে নির্দেশ করে।
আন্তর্জাতিক স্তরে, লস্করের সাথে ফিলিস্তিনি জঙ্গি গোষ্ঠী হামাসের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। পহেলগাঁও হামলার আগে লস্করের অনুষ্ঠানে হামাস নেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। চলতি বছরের শুরুতেও পাকিস্তানের গুরজানওয়ালায় লস্করের একটি বৈঠকে হামাসের শীর্ষ কমান্ডার নাজি জাহিরকে দেখা গেছে, যা সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে বিশ্বব্যাপী সংযোগের ইঙ্গিত দেয়।

আরও পড়ুন: রমরমিয়ে চলছে মধুচক্রের ব্যবসা! কালীগঞ্জে TMC বিধায়ক আলিফা আহমেদের বাড়ি ঘিরে তোলপাড় করা অভিযোগ
এই উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য ও আন্তর্জাতিক সংযোগ দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য গভীর হুমকিস্বরূপ। ভারতের কাছে এগুলো পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সমর্থনের আরও প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, লস্কর-ই-তৈবার এই সাম্প্রতিক তৎপরতা অঞ্চলে সহিংসতা বাড়ানোর একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে নতুন করে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।













