জলসীমা লঙ্ঘন করে উপকূলের কাছে ঘোরাঘুরি! গুজরাটে সৈকতের কাছে আটক পাকিস্তানি নৌকা

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: গুজরাট (Gujarat) উপকূলের কাছে ভারতীয় জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে একটি পাকিস্তানি নৌকা আটক করেছে ভারতের উপকূলরক্ষী বাহিনী। সৈকতের কাছাকাছি সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেই নৌকাটিকে চিহ্নিত করে থামতে নির্দেশ দেওয়া হয়। নৌকায় মোট ৯ জন যাত্রী ছিলেন। প্রাথমিক ভাবে তাঁরা সকলেই পাকিস্তানি মৎস্যজীবী বলে অনুমান করা হলেও, তাঁদের উদ্দেশ্য শুধুই মাছ ধরা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গুজরাট (Gujarat) উপকূলের কাছে আটক পাক নৌকা

উপকূলরক্ষী বাহিনীর গুজরাট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র উইং কমান্ডার অভিষেক কুমার তিওয়ারি জানিয়েছেন, বুধবার রাতে নজরদারির সময় দেখা যায় একটি পাকিস্তানি নৌকা আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে ভারতের দিকে ঢুকে পড়েছে। সতর্কবার্তা দিয়ে নৌকাটিকে থামতে বলা হলে সেটি উল্টো পাকিস্তানের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। তবে উপকূলরক্ষীদের দ্রুত অভিযানে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং নৌকাটি আটক করা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন: অগ্নিগর্ভ ইরান থেকে প্রবাসী ভারতীয়দের দেশে ফেরাতে তৎপর কেন্দ্র! মিলল বড় আপডেট

আটক নৌকাটির নাম ‘আল-মাদিনা’। নৌকায় থাকা ৯ জন যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নৌকাসহ পোরবন্দর বন্দরে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁদের পরিচয়পত্র, নৌকার নথি এবং যাত্রাপথ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। উপকূলরক্ষী বাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা নিজেদের পাকিস্তানি মৎস্যজীবী বলে দাবি করেছেন, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ২০০৮ সালে আরব সাগর দিয়েই পাকিস্তান থেকে ভারতে ঢুকে মুম্বইয়ে ২৬/১১ জঙ্গি হামলা চালিয়েছিল লস্কর-ই-তৈবার আত্মঘাতী জঙ্গিরা। সেই ঘটনার পর থেকে উপকূলীয় নজরদারি বহু গুণ বাড়ানো হয়েছে। ফলে যেকোনও অনুপ্রবেশ বা সন্দেহজনক নড়াচড়া অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

Pakistani boat seized near Gujarat coast.

আরও পড়ুন: কীভাবে নির্ধারিত হয় ট্রেনের ভাড়া? কখনোই জানা যাবে না এই উত্তর, কারণ জানাল রেল

গত কয়েক বছরে গুজরাট উপকূলে একাধিকবার মাদকবোঝাই পাকিস্তানি জলযান আটক করেছে উপকূলরক্ষী বাহিনী। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন লঙ্ঘন করে মাছ ধরার অভিযোগে পাক ট্রলার ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে পড়ার ঘটনাও নতুন নয়। এই প্রেক্ষাপটে ‘আল-মাদিনা’ নৌকার অনুপ্রবেশ ঘিরে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির লক্ষ্য, উপকূলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোনও ফাঁকফোকর যেন না থাকে।