কীভাবে নির্ধারিত হয় ট্রেনের ভাড়া? কখনোই জানা যাবে না এই উত্তর, কারণ জানাল রেল

Published on:

Published on:

What Indian Railways say about train fare determination method.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: আমাদের দেশে গণপরিবহণের ক্ষেত্রে রেলপথ (Indian Railways) একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ ট্রেনে চেপেই নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছে যান। তবে, আপনি কী কখনও ভেবে দেখেছেন কীভাবে রেলের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়? এই প্রশ্ন অনেকের মনেই উদ্রেক হলেও রেল জানিয়েছে এটি একটি ট্রেড সিক্রেট। তাই, এটি প্রকাশ করা যাবে না। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন (সিআইসি) এই বিষয়ে রেলওয়ের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছিল। কিন্তু, রেল জানিয়েছে যে বিভিন্ন ক্লাসের প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ভাড়া নির্ধারণের পদ্ধতি এবং এর ক্লাসিফিকেশন ট্রেড সিক্রেট/বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকারের আওতাধীন। তাই, রাইট টু ইনফরমেশন (RTI) আইনের অধীনে এই তথ্য দেওয়া যাবে না।

কী জানিয়েছে রেল (Indian Railways):

TOI-এর এক রিপোর্টে অনুসারে, CIC ট্রেনের টিকিটের বেস প্রাইস গণনার বিস্তারিত তথ্য চাওয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। যার মধ্যে ডায়নামিক প্রাইসিং এবং তৎকাল বুকিংয়ের প্রভাব সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়েছিল। এই অনলাইন আবেদনটি ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি তারিখে দায়ের করা হয়। সেখানে রেলওয়েকে টিকিটের বেস প্রাইস গণনার ক্ষেত্রে কোনবিষয়, প্যারামিটার, ডায়নামিক প্রাইসিং নির্ধারণের পদ্ধতি, ঋতুগত তারতম্য বা অন্যান্য বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছিল।

What Indian Railways say about train fare determination method.

তথ্য প্রদানের কোনও বাধ্যবাধকতা নেই: এমতাবস্থায়,রেলওয়ে বোর্ডের সেন্ট্রাল পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার (CPIO) তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন যে, ট্রেনের ভাড়া ক্লাস অনুসারে নির্ধারণ করা হয়। বিভিন্ন ক্লাসের ভাড়ার পার্থক্য সেগুলোর মধ্যে প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করে। CPIO জানিয়েছেন, ‘বিভিন্ন ক্লাসের জন্য ভাড়া নির্ধারণ এবং ক্লাসিফিকেশনের পদ্ধতির ক্ষেত্রে, এই নীতি পদ্ধতিটি ট্রেড সিক্রেট /বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকারের আওতাধীন। তাই, জনস্বার্থে এটি প্রকাশ করা উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয় না।’

CPIO আরও বলেছেন যে, RTI আইনের ধারা 8(i)(d)-র অধীনে এই ধরণের তথ্য ভাগ করে নেওয়া আবশ্যক নয়। তাঁর মতে, CIC পূর্ববর্তী আদেশগুলিতে এটি স্বীকার করেছে এবং পুনরাবৃত্তি করেছে। তথ্য অধিকার আইনের ৮ নম্বর ধারায় এমন তথ্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে যা আইনের আওতায় নেই। এর মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা থেকে শুরু করে ট্রেড সিক্রেট এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মতো সংবেদনশীল তথ্য অন্তর্ভুক্ত।

আরও পড়ুন: আরও শক্তিশালী হবে ভারতের ব্যাঙ্কিং সেক্টর! তৈরি হবে চাকরির নতুন সুযোগও, RBI নিল বড় সিদ্ধান্ত

সামাজিক দায়বদ্ধতা: রেলও জানিয়েছে যে, যদিও ভারতীয় রেলপথ একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়, তবুও এটি সরকারের অংশ হিসেবে জাতীয় স্বার্থে বিভিন্ন সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য থাকে। কমিশন আরও উল্লেখ করেছে যে, পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার ইতিমধ্যেই সেইসব তথ্যগুলি উপস্থাপিত করেছেন যেগুলি জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা যেতে পারে। পাশাপাশি, রেলের রেটিং নীতির সাধারণ নীতিগুলিও জানানো হয়।

আরও পড়ুন: দ্বিতীয় ODI-তে টিম ইন্ডিয়ার পরাজয়ের জন্য দায়ী কে? রাখঢাক না রেখে বড় প্রতিক্রিয়া অধিনায়ক গিলের

কমিশন দেখেছে যে, উপলব্ধ রেকর্ডের বাইরে কোনও নতুন তথ্য তৈরি বা ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। শুনানির সময় আপিলকারীর অনুপস্থিতি এবং উত্তরে কোনও ঘাটতি না পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে, তথ্য কমিশনার স্বাগত দাস জানান যে আর কোনও হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই এবং আপিলটি নিষ্পত্তি করা হয়।