শান্তিনিকেতনে এখন জল্পনা তুঙ্গে সোনাঝুরি হাট (Sonajhuri Haat) নিয়ে। হাট চালু থাকবে না বন্ধ থাকবে, হাটের ভবিষ্যৎ কি হতে চলেছে, তা নিয়ে এখন সকলেই আদালতের রায়ের জন্যে অপেক্ষা করছে। খোয়াই নদীর তীরে এই সোনাঝুরি হাট। বনদপ্তরের জমিতে এই হাট বসে। বর্তমানে দূষণ এর কারণে এই হাট নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা।
সোনাঝুরি হাট (Sonajhuri Haat) নিয়ে মামলায় কি বলছে আদালত?
শান্তিনিকেতনের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হল সোনাঝুরি হাট। এই হাট কোথায় বসবে, বন্ধ হয়ে যাবে কিনা এই হাট, তা নিয়ে মামলা আদালত অবধি গড়িয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজ্য সরকার অপেক্ষা করছে। মূলত সোনাঝুরি হাটকে কেন্দ্র করে দূষণের অভিযোগ সামনে আসে। কারণ এখানে যত্রতত্র জঙ্গল জঞ্জাল ফেলা হয়। প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার করা হয়, এছাড়া তার সাথে সাথে গাছ কাটা ও বনাঞ্চলের ক্ষতি উদ্যোগ বাড়াচ্ছে।

পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত আদালতের দ্বারস্থ হন সোনাঝুরি হাটকে রক্ষা করার জন্য। তার অভিযোগ পাওয়ার পরেই রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও বনদপ্তর আদালতে হলফনামা জমা দেয়। সোনাঝুরি হাট মামলার রায় পিছিয়ে গেছে, ২ এপ্রিল এই মামলার রায় বেরোবার কথা। পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্তের মতে আদালতের রায় পিছিয়ে যাওয়াতে পরিবেশের আরও ক্ষতি হবে।
আরও পড়ুন: যাত্রীদের জন্য সুখবর! শিয়ালদহ-সাঁতরাগাছি রুটে দুটি নতুন অমৃত ভারত ট্রেন, জানুন সময়সূচি
সোনাঝুরি হাটের উপর নির্ভর করে বহু মানুষের রুজি রুটি। এখানে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১৮০০ জন ব্যবসায়ীর বসার কথা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে দিনদিন হাটের পরিসর বেড়ে চলেছে। এখন এখানে চার হাজারেরও বেশি ব্যবসায়ী বসেন বলে অভিযোগ জমা পড়েছে। এই বেনিয়মের অভিযোগ এবং সেই সঙ্গে পরিবেশ দূষণের কারণে আদালত নড়েচড়ে বসেছে। ২০০০ সাল থেকে এই হাট চলছে। আশ্রম কন্যা এবং আদিবাসী শিল্পী শ্যামলী খাস্তগীরের উদ্যোগে শনিবার অর্থাৎ সপ্তাহে একদিন করে এই সোনাঝুরি হাটের সূচনা হয়। পরবর্তীকালে তা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এখানে ব্যবসা করতে আসেন।
আরও পড়ুন: ভোটের আগেই নিয়োগ সারার লক্ষ্যমাত্রা, একাদশ-দ্বাদশের সুপারিশপত্র কবে থেকে?
এই হাটে হস্তশিল্পের বহু জিনিস বিক্রি হয়। এই হাট দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। এই হাট বন্ধ হয়ে গেলে বহু মানুষের রুজিরুটির অনেক ক্ষতি হবে। সরকার অপেক্ষা করলেও বিকল্প জায়গার সন্ধান, সেই সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আদালতের রায়ের পরই এ ব্যাপারে সরকার উদ্যোগ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। মানুষের রুজিরুটির উপর যাতে চাপ না পড়ে তার জন্য আশেপাশের অঞ্চলগুলোতেও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাজার গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগে এই হাট সপ্তাহে একদিন বসলেও, এখন সপ্তাহে ছয় দিনই এই হাট বসে। তাছাড়া সোনাঝুরি হাটের আশেপাশে রিসোর্ট ও বেআইনি নির্মাণ, পরিবেশকে আরোও দূষিত করে তুলছে। পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ হল এই হাট। কিন্তু পর্যটন এর জন্য রিসর্ট গড়ে ওঠার কারণে জঙ্গল ও জঙ্গলের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে পরিবেশপ্রেমীরা অভিযোগ জানিয়েছেন। এখন আদালতের রায় কোন দিকে যায়, ২ এপ্রিল সরকার থেকে সাধারণ মানুষ, সকলেই তাকিয়ে আছে সেই রায়ের দিকে।
















