বাংলাহান্ট ডেস্ক: সাধারণতন্ত্র দিবসের রাজপথ কুচকাওয়াজে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) সরকারের ট্যাবলো একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বার্তা বহন করেছে। রাজ্যের ট্যাবলোটিতে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কেন্দ্রীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সংসদে সম্প্রতি বাংলার মনীষীদের নাম নিয়ে উদ্ভূত বিতর্কের প্রতি একটি নীরব কিন্তু স্পষ্ট জবাব বলে গণ্য হচ্ছে।
সাধারণতন্ত্র দিবসে বাংলার (West Bengal) ট্যাবলোতে বাঙালি মনীষীদের শ্রদ্ধাঞ্জলি
শীতকালীন সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ বা ‘বঙ্কিমদাস’ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘রবীন্দ্রনাথ সান্যাল’ বলে উল্লেখ করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে বাংলার মহান ব্যক্তিত্বদের প্রতি ‘অপমান’ বলে অভিহিত করেন। এবারের ট্যাবলো, যার বিষয়বস্তু ‘বাংলা ও বাঙালির অস্মিতা ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার ভূমিকা’, তা সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বন্দে ভারত ও অমৃত ভারত এক্সপ্রেসে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগে যুগান্তকারী বদল, যাত্রীদের উচ্ছ্বাস
ট্যাবলোতে বঙ্কিমচন্দ্রের একটি বিশাল মূর্তি স্থান পেয়েছে, যেখানে তাঁকে ‘আনন্দমঠ’ রচনায় মগ্ন অবস্থায় দেখানো হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও তাঁর স্বকীয় ভঙ্গিমায় উপস্থিত। তবে শুধু এঁদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় এই প্রদর্শনী। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে কলকাতার শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ের ঐতিহাসিক ঘোড়ার পিঠে বসা মূর্তির আদলে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে নেতাজি ও তাঁর পরিবার নিয়ে চলমান রাজনৈতিক আলোচনায় বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে।
ট্যাবলোতে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার অন্যান্য কৃতি সন্তানদেরও স্থান দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন মেদিনীপুরের বীর যুবক ক্ষুদিরাম বসু ও বিপ্লবী মাতঙ্গিনী হাজরা, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাস্টারদা সূর্য সেন, কাজী নজরুল ইসলাম এবং প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। স্বামী বিবেকানন্দ, ভগিনী নিবেদিতা ও রাসবিহারী বসুর মতো ব্যক্তিত্বরাও এই ঐতিহাসিক প্যানোরামার অংশ।

আরও পড়ুন: Netflix আলাদা করে কিনছেন? এই Jio 5G প্ল্যানে ৮৪ দিনেই মিলছে ৩৫ হাজার টাকার প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন
রাজ্য সরকারের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অব ইনফরমেশন আশিস জানা জানিয়েছেন, এই ট্যাবলোর মূল লক্ষ্য ছিল দেশবাসীর সামনে বাংলা ও বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি একটি কৌশলগত সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্ব, যা শাসক দল বিজেপির জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক আলোচনায় বাংলার অবদানকে পুনর্ব্যক্ত করার একটি সুচিন্তিত প্রচেষ্টা। এই ট্যাবলো যেন বাংলার অহংকার ও জাতীয় আন্দোলনে তার অনিবার্য ভূমিকার একটি চলমান দলিল।













