৩৫০ কিমি বেগে ছুটবে বুলেট ট্রেন, দেশজুড়ে সাত জোড়া হাইস্পিড লাইনের ঘোষণা রেলের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: গত ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার কেন্দ্রীয় বাজেটে ৭টি হাই স্পিড রেল করিডোরের ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। কিন্তু শুধু দ্রুতগতির ট্রেন চালালেই হবে না, তার জন্য প্রয়োজন সম্পূর্ণ আলাদা ও আধুনিক রেলপথ। সেই দিকেই বড় পদক্ষেপ করল রেলমন্ত্রক (Indian Railways)। সোমবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানালেন, দেশজুড়ে হাইস্পিড ট্রেন চালানোর জন্য সাত জোড়া পৃথক রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এই রেললাইনগুলি শুধুমাত্র বুলেট ও হাইস্পিড ট্রেনের জন্য নির্দিষ্ট থাকবে।

দেশজুড়ে সাত জোড়া হাইস্পিড লাইনের ঘোষণা রেলের (Indian Railways)

রেলমন্ত্রী ব্যাখ্যা করে জানান, হাইস্পিড বুলেট ট্রেনের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হবে। এত বেশি গতিতে চলাচলের জন্য বর্তমান সাধারণ রেললাইন কিংবা সেই লাইনের পাশের জমি নিরাপদ বা প্রযুক্তিগত ভাবে উপযুক্ত নয়। তাই আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নতুন করে পৃথক করিডোর তৈরি করা হচ্ছে। এই হাইস্পিড নেটওয়ার্কের আওতায় ভবিষ্যতে উত্তর-পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শহর গুয়াহাটি পর্যন্ত বুলেট ট্রেন পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন: অভাবের সংসার মারতে পারেনি স্বপ্নকে, খড়গপুর থেকে মাইক্রোসফটে পাড়ি কৃষকপুত্রের

সোমবার রেলভবনে সাংবাদিক বৈঠকে অশ্বিনী বৈষ্ণব আরও জানান, চলতি অর্থবর্ষে রেলমন্ত্রকের মোট বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে ২ লক্ষ ৭৮ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০.৮ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে বাংলার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১৪,২০৫ কোটি টাকা, যা গতবারের তুলনায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বেশি। তবে কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণ নিয়ে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা নিয়ে ফের প্রশ্ন তোলেন রেলমন্ত্রী।

পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনার কথা জানান অশ্বিনী বৈষ্ণব। ডানকুনি-সুরাত ফ্রেট করিডোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নতুন করিডোর ডানকুনিকে শুধু গুজরাতের সঙ্গে নয়, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের মতো একাধিক শিল্প রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করবে। এর ফলে পণ্য পরিবহণ আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে এবং শিল্পক্ষেত্রে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছে রেলমন্ত্রক।

Indian Railways announces 7 pairs of high-speed lines across the country.

আরও পড়ুন: অভাবের সংসার মারতে পারেনি স্বপ্নকে, খড়গপুর থেকে মাইক্রোসফটে পাড়ি কৃষকপুত্রের

এদিকে রেললাইনে হাতি মৃত্যুর ঘটনা রুখতেও প্রযুক্তিনির্ভর একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলমন্ত্রী জানান, অপটিকাল ফাইবার কেবল, এআই-ভিত্তিক ক্যামেরা এবং সেন্সরের মাধ্যমে জঙ্গলঘেরা রেলপথে হাতির গতিবিধির উপর নজর রাখা হবে। আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করে ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই দুর্ঘটনা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, হাইস্পিড রেল থেকে নিরাপত্তা ও পরিবহণ—সব ক্ষেত্রেই রেল ব্যবস্থাকে আধুনিক ও ভবিষ্যতমুখী করে তুলতেই এই পদক্ষেপগুলি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।