বাংলাহান্ট ডেস্ক: সাম্প্রতিক একাধিক বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় ভারতে (India) দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি হ্রাস পরিকল্পনা এবং স্থানীয় স্তরের প্রস্তুতির গুরুতর ঘাটতিকে প্রকাশ্যে এনেছে National Disaster Management Authority (এনডিএমএ)। যার স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে ২০২১ সালের চামোলি তুষারধস এবং ২০২৪ সালের ওয়েনাড় ভূমিধসের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থার সংকলিত মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বিপর্যয়-পরবর্তী বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে যে ঝুঁকি পূর্বাভাস ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় কাঠামোগত দুর্বলতা রয়ে গেছে।
ভারতে (India) ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা, সতর্ক করল NDMA:
প্রসঙ্গত উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে ২০২১ সালে হিমবাহ ভেঙে তুষারধসের ঘটনায় দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ধ্বংস হয়ে যায় এবং সেখানে প্রচুর মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এনডিএমএ-র রিপোর্ট অনুযায়ী, হিমালয় অঞ্চলে প্রচলিত প্রকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে একেবারেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অতিরিক্ত মানব হস্তক্ষেপ মিলিয়ে যে যৌগিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা তথাকথিত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অনুমানের সীমা অতিক্রম করছে। ফলে প্রকল্প অনুমোদনের সময় যে ঝুঁকি হিসাব করা হয়েছিল, বাস্তবে পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আরও পড়ুন: SIR চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, আপনার নাম আছে তো? এভাবে অনলাইনে চেক করুন
একইভাবে ২০২৪ সালের ওয়েনাড় ভূমিধস ঠিক একই ভাবে স্থানীয় স্তরে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও দুর্যোগ প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা সকলের সামনে তুলে ধরে। এনডিএমএ-র মতে, একাধিক ক্ষেত্রে সতর্ক সংকেত পাওয়া সত্ত্বেও তা যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়ার ফলে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে যাচ্ছে। সময়মতো ঝুঁকি মূল্যায়ন ও স্থানীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে কিছু ক্ষয়ক্ষতি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে এড়ানো যেত বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে শুধুমাত্র অবকাঠামো নির্মাণ নয়, তার সঙ্গে সমান্তরালভাবে সম্প্রদায়ভিত্তিক সচেতনতা ও প্রস্তুতিও জরুরি।
পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে উত্তরাখণ্ডের Silkyara Tunnel-এর ঘটনা। ২০২৩ সালে সুড়ঙ্গ ধসের আগে নির্মাণকাজ চলাকালীন অন্ততপক্ষে ২১ বার ছোট-বড় ধসের ঘটনা ঘটে। তবুও নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও নির্মাণপদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনাগুলি থেকেই বোঝা যায় যে, প্রাথমিক সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে বড় বিপর্যয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন: চেনা উপকরণে অচেনা স্বাদ, এঁচোড়ের চম্পারন বানান অল্প কিছু উপকরণ দিয়ে, জানুন রেসিপি
ভবিষ্যতে বিশেষ করে হিমালয় ও অন্যান্য সংবেদনশীল অঞ্চলে পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে ‘ডায়নামিক রিস্ক মডেলিং’ বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ জানিয়েছে এনডিএমএ। পরিবর্তনশীল জলবায়ু, ভূকম্পন প্রবণতা এবং বহুমুখী বিপদের সম্ভাবনাকে একসঙ্গে বিবেচনায় করে পরিকল্পনা না করলে ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে মত সংস্থার। পাশাপাশি বিস্তারিত ভূতাত্ত্বিক ও জলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়ন ছাড়া বড় প্রকল্পে অনুমোদন না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৈজ্ঞানিক সতর্কতা এবং স্থানীয় প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এখন সময়ের দাবি।

















