আফগানিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে পাকিস্তানকে সমর্থন করলেন ট্রাম্প! ভারতের বাড়বে উদ্বেগ?

Published on:

Published on:

Trump clarifies his position in the Pakistan-Afghanistan War.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ক্রমশই চরম আকার নিচ্ছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত (Pakistan-Afghanistan War)। সীমান্তে লাগাতার গোলাগুলি, হামলা পাল্টা হামলার অভিঘাতে বেড়েই চলেছে প্রাণহানির সংখ্যা। এই আবহে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছে আমেরিকা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আফগান সংঘাতে সবরকম ভাবে ইসলামাবাদের পাশে আছেন অর্থাৎ পাকিস্তানকেই সমর্থন করবেন তিনি। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো এবং সে দেশের নেতৃত্বের প্রতিও তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান রয়েছে।

পাক-আফগান (Pakistan-Afghanistan War) যুদ্ধে নিজের স্থান স্পষ্ট করলেন ট্রাম্প:

ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির দু’জনই “মহান নেতা” এবং পাকিস্তান যা করছে একেবারই “ঠিক কাজ করছে”। পাশাপাশি মার্কিন বিদেশ দপ্তরও বিবৃতি জারি করে জানায়, তালিবানের হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, অতীতে তালিবান সরকার সন্ত্রাসবাদ দমনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং গোটা আফগান ভূখণ্ডই জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে আরও একটি তত্ত্ব উঠে আসছে যে, দীর্ঘদিনের চেষ্টাতেও তালিবানকে পুরোপুরি কখনই দমন করতে পারেনি আমেরিকা, তাই পাক-আফগান যুদ্ধে কৌশলগতভাবে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প আঞ্চলিক সমীকরণে প্রভাব বাড়াতে চাইছে বলে মতপ্রকাশ করেছে বিভিন্ন মহল।

আরও পড়ুন:গ্লোবাল ইনভেস্টরদের প্রথম পছন্দ ভারত! FDI-তে ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি, আমেরিকা থেকে বিপুল বিনিয়োগ

অন্যদিকে দুই দেশের সংঘাত ঠিক কোন চূড়ান্ত পর্যায় গিয়ে শেষ হবে এখন, তার হদিশ মেলা ভার। পাকিস্তানের গত রবিবারের হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার রাতে আফগান বাহিনী সীমান্ত পেরিয়ে আক্রমণ চালায় বলে দাবি তালিবান প্রশাসনের। তাদের দাবি, পাকিস্তানের অন্তত ১২টি সামরিক পোস্ট দখলে আফগানিস্তান এবং সেই অভিযানে ৫৫ জন পাক সেনার মৃত্যুও হয়েছে। যদিও ইসলামাবাদ এই দাবি অস্বীকার করেছে। পালটা হিসেবে শুক্রবার আফগানিস্তানের একাধিক এলাকায় আঘাত হানে পাকিস্তান। উভয় পক্ষই সেনা হতাহতের কথা স্বীকার করেছে।

উল্টোদিকে পাকিস্তানের তরফ থেকে কাবুল ও কান্দাহারে পাক বিমানবাহিনীর টহল দেওয়ার কথা জানানো হয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ আগেই ঘোষণা করেছেন, “ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে, এবার সরাসরি যুদ্ধ।” অন্যদিকে আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেছেন, কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ পাল্টা দাবি করেছে, সীমান্ত পেরিয়ে হামলার জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Trump clarifies his position in the Pakistan-Afghanistan War

আরও পড়ুন:গ্লোবাল ইনভেস্টরদের প্রথম পছন্দ ভারত! FDI-তে ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি, আমেরিকা থেকে বিপুল বিনিয়োগ

এই আবহে তালিবান সরকারের সুইসাইড স্কোয়াডের সক্রিয়তার খবরও প্রকাশ্যে। যা আন্তর্জাতিক মহলে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সীমান্ত জুড়ে অস্থিরতা বাড়ায় গোটা দক্ষিণ এশিয়া নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তার মধ্যে ট্রাম্পের পাক-প্রীতি পরিস্থিতি কোন দিকে নিয়ে যাবে সে চিন্তাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা— সব ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে।