বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাজস্থানের জয়পুর শহরের দুই কলেজবন্ধু বিদুষী ও নেহাল অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবসায় বেশ সাফল্য (Success Story) অর্জন করেছেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে তারা ‘পেহরিন’ নামে একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ড চালু করেন, যেখানে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের জাতিগত পোশাক বিক্রি করা হয়। মাত্র ১৭ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা এই উদ্যোগ ছয় মাসের মধ্যেই প্রায় ১২ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা আয় করেছে এবং ১,২০০-রও বেশি অর্ডার সরবরাহ করেছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে তাদের এই সাফল্যের গল্প এখন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
বিদুষী-নেহালের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
বিদুষী ও নেহালের পরিচয় কলেজ জীবনেই। তারা দু’জনেই একই কলেজ থেকে বিবিএ-তে ভর্তি হন। পড়াশোনার সময়ই তাদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন জন্ম নেয়। সেই আগ্রহেই স্নাতক ডিগ্রি শেষ করার পর তারা ২৫ দিনের একটি ইনস্টাগ্রাম চ্যালেঞ্জ নেন, যেখানে এই সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্যাশন ব্র্যান্ড দাঁড় করানোর লক্ষ্য ছিল তাদের। পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও ডিজিটাল কৌশলের মাধ্যমে তারা সেই চ্যালেঞ্জে সফল হন।
আরও পড়ুন: ভারতের ১০০ টাকার ‘মূল্য’ ইরান-ইজরায়েলে কত? জানলে হবেন ‘থ’
কলেজ শেষ হওয়ার পরপরই তারা স্থানীয় ক্যাফে, রেস্তোরাঁ ও ছোট খাদ্য ব্যবসার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের কাজ শুরু করেন। এই কাজ থেকেই তারা ডিজিটাল প্রচার ও গ্রাহক আচরণ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ছয় মাসের মধ্যে তারা বুঝতে পারেন, নিজেদের ব্র্যান্ড গড়ার সময় এসেছে। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাককে আধুনিক ডিজাইনের সঙ্গে মিশিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তারা। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় ‘পেহরিন’।
তবে, এই সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। দুজনের পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ এসেছিল। তবে বাবা-মায়ের আপত্তি সত্ত্বেও বিদুষী ও নেহাল নিজেদের স্বপ্নের পথেই এগোন। পূর্ববর্তী ইন্টার্নশিপ ও সোশ্যাল মিডিয়া কাজ থেকে সঞ্চিত ১৭ হাজার টাকা দিয়েই তারা ব্যবসা শুরু করেন। কাপড় সংগ্রহ, ডিজাইন, সেলাই থেকে প্যাকেজিং—সবকিছু তারা স্বচ্ছভাবে তাদের ইনস্টাগ্রাম পেজে তুলে ধরেন, যা গ্রাহকদের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন: রাজ্যসভা মনোনয়ন ঘিরে ঝড়! LGBTQ প্রার্থী নিয়ে মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে অসন্তোষ, চাপে মমতা?
লঞ্চের পর প্রথম ছয় মাসেই ‘পেহরিন’ ১,২০০-র বেশি অর্ডার ডেলিভারি করেছে। সীমিত পুঁজি ও শক্তিশালী ডিজিটাল উপস্থিতির মাধ্যমে তারা দ্রুত বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। ক্রেতাদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও মুখে-মুখে প্রচারের ফলে ব্র্যান্ডটির পরিচিতি আরও বেড়েছে। স্বল্প মূলধন, সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও আত্মবিশ্বাস—এই তিন শক্তিকেই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন বিদুষী ও নেহাল। তাদের যাত্রা প্রমাণ করে, সঠিক কৌশল ও অধ্যবসায় থাকলে ছোট উদ্যোগও বড় সাফল্যে পৌঁছতে পারে।

















