বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অভিঘাতে যে পাকিস্তান (Pakistan) কতটা নাজেহাল হয়েছিল তা এবার আরও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ল সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে। সেখানে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তানের চাকওয়ালের কাছে অবস্থিত মুরিদ এয়ারবেস কার্যত সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। সূত্রের খবর, ভারতের সিঁদুর অভিযানে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে তা মেরামতের চেষ্টা চললেও শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ফলে শেষমেশ পুরো ঘাঁটিটিই গুঁড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অবশেষে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল পাকিস্তানের (Pakistan) মুরিদ এয়ারবেস
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১০ মে ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তানের একাধিক সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যার নাম রাখা হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। সূত্রের খবর, এই অভিযানে মোট ১০টি বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে জানা যায়। তার মধ্যেই অন্যতম ছিল মুরিদ এয়ারবেস। সূত্রের খবর, এই ঘাঁটির কেন্দ্রীয় ভবনে আঘাত হানে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র, যার ফলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। জানা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে উপগ্রহচিত্রে ওই এলাকা ত্রিপল বা সবুজ ঢাকনায় ঢাকা অবস্থায় দেখা গিয়েছিল।
আরও পড়ুন:গ্যাস সংকট নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ মমতার, বৃহস্পতিবার নবান্নে জরুরি বৈঠক, ফের পথে নামতে পারে তৃণমূল
সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, যেখানে আগে ভবনটি ছিল সেখানে এখন গোলাপি রঙের ইট-পাথরের টুকরো ছড়িয়ে রয়েছে এবং মাটিও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষক ডামিয়েন সাইমন জানিয়েছেন, এই ছবিগুলি স্পষ্টভাবে ধ্বংসের ইঙ্গিত দেয়। তাঁর মতে, “উপগ্রহচিত্র দেখে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ওই এলাকায় নির্মাণকাজ নয়, বরং ধ্বংসের কাজই হয়েছে।” তাঁর মতে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত শুধু ভবনের ছাদে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং পুরো পরিকাঠামোকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল যে তা আর মেরামত করা সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, শুধু মূল ভবনই নয়, মুরিদ এয়ারবেসের ভূগর্ভস্থ অংশও এই হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আগের উপগ্রহচিত্রে দেখা গিয়েছিল যে মিসাইল ভবনের ছাদ ভেদ করে ভিতরে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এর ফলে ভেতরের অংশও গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়ে। এই কারণেই পরবর্তীতে মেরামত করার চেষ্টাও খুব বেশি এগোতে পারেনি বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ৫০ বছর পর আমেরিকায় নতুন তেল শোধনাগার, ট্রাম্পের ঘোষণায় রিলায়্যান্সের ৩০ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ
ড্যামিয়েন সাইমনের দাবি, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে উপগ্রহচিত্রে ওই এয়ারবেসে মেরামতের কিছু কাজ শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছিল। তার আগেই জুন মাসের ছবিতে দেখা গিয়েছিল গোটা ঘাঁটি সবুজ আবরণ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ছবিতে সেই মেরামতের কোনও চিহ্ন নেই। বরং স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, পুরো স্থাপনাটিই ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আঘাত কতটা গভীর ছিল, তা নতুন করে সামনে এসেছে বলেই মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

















