বাংলাহান্ট ডেস্ক: বর্তমানে আমরা দেখেছি ব্যবসা শুরু মানেই বড় পুঁজি, বিলাসবহুল অফিস ও বিশাল টিম এই প্রচলিত ধারণা রয়েছে অনেকের মধ্যেই। তবে, সেই প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সফল (Success Story) হয়ে নজির গড়েছেন ২৪ বছর বয়সী তরুণ উদ্যোক্তা উজ্জ্বল। সম্প্রতি তিনি নিজের চাকরি ছেড়ে মাত্র ১২০ দিনের মধ্যে ‘LinkPlease’ নামের একটি স্টার্টআপ গড়ে তুলেছেন, যার টার্নওভার ইতিমধ্যেই ১ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সাফল্যের গল্প দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
উজ্জ্বলের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
উজ্জ্বলের এই উদ্যোগের মূল শক্তি ছিল একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাকে চিহ্নিত করা। তিনি লক্ষ্য করেন, সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের একটি বড় সমস্যা রয়েছে,তাদের পোস্টের পর অসংখ্য দর্শক বিভিন্ন লিঙ্ক বা তথ্য জানতে চান। কিন্তু এত মানুষের মেসেজের উত্তর দেওয়া একা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। এই সমস্যার সমাধান খুঁজতেই তিনি তৈরি করেন একটি অটোমেশন-বেসড সফটওয়্যার, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য বা লিঙ্ক পাঠিয়ে দিতে পারে।
আরও পড়ুন: দ্বিতীয় দফার ভোটে কত আসন পাবে বিজেপি, জানিয়ে দিলেন অমিত শাহ
শুরুতে উজ্জ্বল কোনও বড় বিনিয়োগ বা টিমের উপর নির্ভর করেননি। তিনি নিজেই সফটওয়্যারটির প্রথম সংস্করণ তৈরি করেন এবং কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বিনামূল্যে ব্যবহার করতে দেন। ব্যবহারকারীদের মতামত ও ত্রুটি চিহ্নিত করার ভিত্তিতে তিনি দ্রুত সফটওয়্যারটি উন্নত করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি একটি কার্যকর ও পেশাদার টুলে পরিণত হয়, যা ক্রিয়েটরদের কাজের চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
View this post on Instagram
বর্তমানে ‘LinkPlease’ ব্যবহার করছেন ১০,০০০-এরও বেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর। উজ্জ্বলের দাবি, এই সংখ্যাটি ক্রমশ বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান। তাঁর লক্ষ্য এখন ১০ মিলিয়ন থেকে ১০০ মিলিয়ন টার্নওভারে পৌঁছানো। ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞদের একাংশ তাঁকে এই টুলটি টুইটার ও লিঙ্কডইনের মতো অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও প্রসারিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:‘আমার পরিবারের সদস্য’, ‘ওঁর শরীরে হিন্দু রক্ত বইছে’, ফিরহাদকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি মমতার
উজ্জ্বলের এই যাত্রাপথ প্রমাণ করে, বড় সাফল্যের জন্য সবসময় বড় পুঁজি বা বিশাল পরিকাঠামোর প্রয়োজন হয় না। বরং বাস্তব সমস্যার সঠিক সমাধান খুঁজে বের করতে পারলেই তৈরি হতে পারে সফল ব্যবসা। তাঁর গল্প নতুন প্রজন্মকে দেখাচ্ছে, সঠিক ধারণা, পরিশ্রম এবং ঝুঁকি নেওয়ার সাহস থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই বড় সাফল্য (Success Story) অর্জন করা সম্ভব।













