বাংলা হান্ট ডেস্ক : গণনার প্রক্রিয়া (West Bengal Election Result) এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, তবে স্পষ্ট রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি (BJP), অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই পিছিয়ে তৃণমূল (Trinamool Congress)। এই ফলাফল শুধু সংখ্যার হিসেব নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে সম্ভাব্য বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই মুহূর্তে ১৯৭ আসনে এগিয়ে বিজেপি। তৃণমূল ৯০ আসনে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের উত্থান অনুমান করা হলেও, এত বড় ব্যবধান তৈরি হবে তা অনেক বিশ্লেষকই আগে থেকে ধরতে পারেননি।
কেন ভরাডুবি তৃণমূলের (Trinamool Congress) ?
ভোটের আগের দিন পর্যন্ত তৃণমূল নেতৃত্ব ২০০-র বেশি আসনে জয়ের দাবি করেছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—দলের ভিতরে এই পতনের আভাস কি তারা পাননি, নাকি কর্মীদের মনোবল ধরে রাখতেই এমনটা দাবি করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে সামনে রেখে তৃণমূলের এই ভরাডুবির জন্য সম্ভাব্য কারণগুলি উঠে আসছে।
দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলকে চাপে রেখেছে। শিক্ষা থেকে রেশন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। আরজি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার মতো ঘটনা মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষও মানুষের মধ্যে চেপে রয়েছে।
কর্মসংস্থানের অভাব একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। শিল্পোন্নয়নের নানা ঘোষণা সত্ত্বেও বাস্তবে বড় মাপের কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে সাধারণ মানুষের তরফে। পরিবারতন্ত্র ও স্বজনপোষণের অভিযোগও বারবার সামনে এসেছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। প্রশাসন ও দলকে এক করে ফেলেছিল তৃণমূল।
অন্যদিকে, বিজেপি কৌশলগতভাবে নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক মজবুত করার চেষ্টা করেছে। সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণ মাথায় রেখে তারা ভিন্ন ইস্যুকে সামনে এনে প্রচার চালিয়েছে, যা কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে উত্তপ্ত এলাকা! মমতার বাড়ির কাছে টানটান পরিস্থিতি
এবারের ভোটের প্রবণতা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, একাংশ ভোটার সরাসরি পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। এই রায় শুধুমাত্র কোনও একটি দলের পক্ষে নয়, বরং শাসক দলের বিরুদ্ধে অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।













