বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ,বুধবার নবান্নে (Nabanna) বিশেষ তৎপরতা। একই দিনে মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠক, নতুন সামাজিক প্রকল্পের সূচনা এবং তিন জেলার প্রশাসনিক পর্যালোচনা সভা—সব মিলিয়ে কার্যত ব্যস্ততম দিনের সাক্ষী হতে চলেছে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর।
নবান্নের (Nabanna) বৈঠকে কী কী আলোচনা ?
জানা যাচ্ছে, আজ দুপুর ২টো থেকে কলকাতা, হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সাংসদ, বিধায়ক এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলার উন্নয়নমূলক কাজ, পরিকাঠামো এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধান নিয়ে সেখানে আলোচনা হবে। বিশেষ করে হাওড়ার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন।
এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কারণ, সই-বিতর্কের জেরে সম্প্রতি দলীয় শাস্তির মুখে পড়া উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও ওই সভায় উপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছেন। যদিও তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে।
অন্যদিকে, দিনের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠক। সোমবার শপথ নেওয়া ৩৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে কে কোন বিভাগের দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, তারকেশ্বর মন্দির সংক্রান্ত কিছু বিষয় নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী ৫ জুন প্রকাশিত হতে যাওয়া নিয়োগ নীতির খসড়া ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিও বৈঠকে উঠে আসতে পারে।
মন্ত্রীসভার বৈঠক শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে রাজ্যের নতুন জনমুখী কর্মসূচি ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। নবান্নের সভাঘরে এর উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রকল্পের সূচনা উপলক্ষে তিনি নিজ হাতে ৪০ জন সুবিধাভোগীর কাছে অনুমোদনপত্র তুলে দেবেন। রাজ্যের প্রতিটি ব্লক, পুরসভা এবং কলকাতা পুর এলাকায় অন্নপূর্ণা যোজনার ১০০ জন করে উপভোক্তার হাতে অনুমোদনপত্র তুলে দেওয়া হবে। প্রথম দফায় কমবেশি ২০ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন :দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর খুলছে পথ, ফের চালু হচ্ছে বাংলার ১০০ দিনের কাজ
নতুন সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হতে চলেছে বুধবার থেকেই। তাই নবান্নের এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলি শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও আগামী দিনের রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।














