বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) ভাঙনের মধ্যেই দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে থাকা মোট প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা স্থগিত করা হয়েছে। জয়নগরের এক বিধায়কের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাঙ্ককে চিঠি পাঠানো হয়।
তৃণমূলের (Trinamool Congress) ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ
তৃণমূলের ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন হয়েছে এবং সেখানে কাটমানির অর্থও থাকতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। সেই কারণেই তদন্তের স্বার্থে তিনটি অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে ফ্রিজ করার অনুরোধ জানানো হয়। ফলে বর্তমানে ওই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে কোনও অর্থ তোলা বা ব্যবহার করা যাবে না।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের আর্থিক তহবিল নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই দলের অন্দরে জোর বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ শিবির এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠদের মধ্যে ফান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও অধিকার নিয়ে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে, গত ১২ জুন অরূপ বিশ্বাস ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে দলের তহবিল সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখার আবেদন করেছিলেন। তবে সেই আবেদন কার্যকর হয়নি। কারণ, তার আগেই ৫ জুন তৃণমূলের পক্ষ থেকে অরূপকে কোষাধ্যক্ষের পদ থেকে সরিয়ে শুভাশিস চক্রবর্তীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তৃণমূলের দলীয় সূত্রে দাবি, এই পরিবর্তন সমস্ত আইনি নিয়ম মেনেই করা হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর গত দু’দিন ধরে রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর মাঝেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে ‘বাহন’ বিতর্কও নতুন মাত্রা পায়।

আরও পড়ুন : ঋতব্রত শিবিরে নতুন ভূমিকায় ফিরহাদ! বিধানসভায় প্রশিক্ষক হয়ে কী বার্তা দিলেন ববি?
তৃণমূলের টাকা প্রসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে দলের ফান্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অ্যাকাউন্টে যে টাকা…এটা যে কাটমানির টাকা নয়, এটা যে ডাকাতির টাকা নয়, এটা যে তোলাবাজির টাকা নয়…নানা ধরনের দুর্নীতির টাকা নয়, এটা প্রমাণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এই যে টাকা…ধরুন এই যে চার্টার্ড ফ্লাইট …হয়তো এই টাকা থেকেই খরচ হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের বিধায়করা বিধাননগরে অভিযোগ দায়ের করেছে।” ঋতব্রতের এই মন্তব্য সামনে আসার পর বিতর্ক আরও জোরদার হয়। তার মধ্যেই পুলিশের পদক্ষেপে তৃণমূলের তহবিল সংক্রান্ত জটিলতা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

















