বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিধানসভার ভিতরে তৃণমূলের অন্দরের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। গত কয়েকদিন ধরে ফিরহাদ হাকিমকে (Firhad Hakim) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে দেখা যাচ্ছিল। এবার সেই জল্পনায় আরও নতুন মাত্রা যোগ হল। শুক্রবার ঋতব্রত শিবিরের নতুন বিধায়কদের জন্য আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষকের ভূমিকায় দেখা গেল ফিরহাদ হাকিমকে। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা।
ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) প্রশিক্ষণ শিবির
বর্তমানে বিধানসভায় তৃণমূলের ভিতরে একাধিক গোষ্ঠীর অস্তিত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাদের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন নতুন বিধায়ক এবার প্রথমবার বিধানসভায় এসেছেন। তাঁদের বিধানসভার কাজকর্ম সম্পর্কে ধারণা দিতেই শুক্রবার একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়।
বিধানসভার অধিবেশন শেষ হওয়ার পর বিরোধী দলনেতার ঘরে এই কর্মসূচি হয়। সেখানে নতুন বিধায়কদের শেখানো হয় কীভাবে বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে হয়, কীভাবে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিতে হয়, দৃষ্টি আকর্ষণ প্রস্তাব আনা যায় এবং বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা যায়।
প্রায় দু’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এই প্রশিক্ষণ শিবির। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই কর্মসূচিতে প্রশিক্ষকের ভূমিকা পালন করেছেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। এছাড়া রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ দেন ঋতব্রত নিজেও। উপস্থিত ছিলেন কসবার বিধায়ক জাভেদ খানও।
বাড়ছে রাজনৈতিক জল্পনা
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। ৮ জুন বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে দীর্ঘ বৈঠক করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়ক সন্দীপন সাহা।
এরপর আরও কয়েকবার ঋতব্রতের ঘরে বৈঠকে দেখা যায় ফিরহাদকে (Firhad Hakim)। বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশনেও ঋতব্রত ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বিধায়কদের পাশে বসেছিলেন তিনি। সেই ঘটনাকে অনেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। এবার নতুন বিধায়কদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনায় সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ২১ জুলাইয়ের সভা ঘিরে বড় ধাক্কা! মমতা-অভিষেককে নোটিস দিল কলকাতা হাই কোর্ট
কী বললেন কুণাল ঘোষ?
ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) সাম্প্রতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “ববিদা রাজনীতিতে অনেক সিনিয়র নেতা। তাঁকে নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে অনেক স্নেহ করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। এখন বিধানসভায় ঢুকেই দেখি ববিদা বাঁ দিকেই চলে যাচ্ছেন।”কুণালের এই মন্তব্যের পর ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলের কৌতূহল আরও বেড়েছে।

















