ঘন্টায় ২০ টাকার চাকরি থেকে আজ নিজেই ৩৫০ কোটির কোম্পানির মালিক! চমকে দেবে নিতিনের কাহিনি

Published on:

Published on:

Success Story of Nitin Kalra will surprise you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দিল্লির বাসিন্দা নিতিন কালরার জীবনের গল্প প্রমাণ করে, সাফল্যের (Success Story) পথে কোনও শর্টকাট নেই। একসময় সংসারের খরচ চালানোর জন্য কলেজে পড়ার পাশাপাশি ঘণ্টায় মাত্র ২০ টাকা মজুরিতে ম্যাকডোনাল্ডসে টেবিল পরিষ্কার থেকে শুরু করে টয়লেট পরিষ্কারের মতো কাজও করতে হয়েছে তাঁকে। সেই তরুণই পরে কর্পোরেট জগতে নিজের দক্ষতায় বছরে প্রায় ১ কোটি টাকার বেতনের চাকরি পান। কিন্তু স্থায়ী ও উচ্চ বেতনের চাকরিতে থেমে থাকতে চাননি তিনি। নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সাহস দেখিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে চাকরি ছেড়ে শুরু করেন নিজস্ব উদ্যোগ। আজ তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংস্থা ‘লেটস ট্রাই’-এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। নিতিনের এই পথচলা আজ অসংখ্য তরুণ উদ্যোক্তার কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

নিতিন কালরার অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

নিতিন দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় খাদ্য ও পানীয় শিল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। সেই সময় তিনি উপলব্ধি করেন, বাজারে চিপস, নমকিন ও বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকসের অভাব না থাকলেও স্বাস্থ্যকর বিকল্পের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। ঠিক সেই সময় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও আসে এক বড় ধাক্কা। পরিবারের এক সদস্য, তাঁর ভাগ্নের থ্যালাসেমিয়া ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিবারের খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনতে হয়। তখনই নিতিন আরও গভীরভাবে বুঝতে পারেন, বাজারে প্রচলিত অধিকাংশ স্ন্যাকসে অতিরিক্ত পরিশোধিত ময়দা, নিম্নমানের তেল এবং বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। এই অভিজ্ঞতাই তাঁর ভাবনাকে নতুন দিশা দেয়। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, এমন একটি ব্র্যান্ড তৈরি করবেন যেখানে স্বাদ এবং স্বাস্থ্য—দুটিরই সমান গুরুত্ব থাকবে (Success Story)।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের অস্থিরতার আবহেই বড় ঝটকা পেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! ডুবল পরিবারের ৫,৭০০ কোটি টাকা

২০২১ সালে নিতিন কালরা তাঁর কোটি টাকার চাকরিকে বিদায় জানান। স্ত্রী চিত্রা গুপ্তার সঙ্গে মিলে শুরু করেন ‘লেটস ট্রাই’ নামের একটি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস ব্র্যান্ড। সংস্থার মূল লক্ষ্য ছিল এমন খাবার তৈরি করা, যা পরিশোধিত ময়দা ছাড়া এবং ১০০ শতাংশ খাঁটি চিনাবাদামের তেল ব্যবহার করে প্রস্তুত হবে। শুরুটা সহজ ছিল না। বড় বড় প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, বাজারে নিজেদের জায়গা তৈরি করা এবং ক্রেতাদের আস্থা অর্জন—সবই ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু নিজেদের পণ্যের গুণমান এবং স্বাস্থ্যকর উপাদানের উপর ভরসা রেখেই ধীরে ধীরে বাজারে পরিচিতি পেতে শুরু করে তাঁদের ব্র্যান্ড।

ব্যবসার মোড় ঘুরে যায় জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়া’-তে অংশ নেওয়ার পর। প্রথম সিজনে নিতিন তাঁর সংস্থার ২ শতাংশ শেয়ারের বিনিময়ে ৪৫ লক্ষ টাকার বিনিয়োগের আবেদন করেন। প্রথমে অনুপম মিত্তাল এবং আমান গুপ্ত—দুজনেই আগ্রহ দেখালেও পরে অনুপম সরে দাঁড়ান। শেষ পর্যন্ত boAT-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা আমান গুপ্ত নিতিনের পরিকল্পনা, কর্মনিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির উপর আস্থা রেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকসের বাজারে প্রতিযোগিতা থাকলেও নিতিনের ভাবনা এবং ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি সংস্থাটিকে আলাদা পরিচিতি এনে দিতে সক্ষম হবে। সেই বিশ্বাসই পরবর্তীকালে বাস্তবে রূপ নেয়।

Success Story of Nitin Kalra will surprise you.

আরও পড়ুন: PoK-তে অশান্তির আগুন! বাড়ছে জনরোষ, এই আবহেই নিয়ন্ত্রণরেখা পরিদর্শন করলেন ভারতের সেনাপ্রধান

পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে আমান গুপ্ত জানান, ‘লেটস ট্রাই’-এ তাঁর প্রায় ১২ লক্ষ টাকার বিনিয়োগের মূল্য বর্তমানে বেড়ে প্রায় ৪০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তিনি এটিকে ‘শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়া’-তে করা তাঁর সবচেয়ে সফল বিনিয়োগগুলির অন্যতম বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে নিতিন কালরার সংস্থার মূল্যও কয়েক বছরের মধ্যেই কয়েকশো কোটি টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। তাঁর এই যাত্রা শুধু একটি সফল স্টার্টআপের গল্প নয়, বরং অধ্যবসায়, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং নিজের লক্ষ্যে অটল থাকার এক বাস্তব উদাহরণ। ঘণ্টায় ২০ টাকার চাকরি থেকে শতকোটি টাকার সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা হয়ে ওঠার এই গল্প আবারও প্রমাণ করে, কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং নতুন কিছু করার সাহস থাকলে সাফল্যের (Success Story) দরজা একদিন না একদিন খুলবেই।