বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে উদ্যোগী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সরকার। সোমবার বিকাশ ভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরেই শিক্ষক নিয়োগ (Teacher Recruitment) থেকে শুরু করে শিক্ষাব্যবস্থা সংক্রান্ত একগুচ্ছ ঘোষণা করেন তিনি।
শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? | (Teacher Recruitment)
এদিন বিকাশ ভবনে হওয়া বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও দিল্লি থেকে আসা ৮ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিক সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানেরও ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার কথা ছিল। এই বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বেশ কিছু ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ রথে হাওড়া থেকে নবদ্বীপ ধাম যাওয়া আরও সহজ! চলবে স্পেশ্যাল ট্রেন, সময়সূচি জানুন
রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক নিয়োগ সম্বন্ধে শুভেন্দু বলেন, “সমাজমাধ্যমে অনেকেই জিজ্ঞেস করছেন শিক্ষক নিয়োগ কবে হবে। তাঁদের উদ্দেশে জানাই, পূর্ববর্তী সরকার ওবিসি সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় জট পাকিয়ে রেখেছিল। বর্তমান সরকার বিধানসভায় আইন এনে প্রথমে সেই ভুল নীতি সংশোধন করেছে”।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষ হয়েছে। এরপরেই রাজ্যের তরফে ওবিসি মামলার বিষয়টি আদালতে উল্লেখ করা হয়। কিছুদিনের মধ্যে শীর্ষ আদালতের আইনি জটিলতা থেকে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসবে। এরপরেই ইন্টারভিউ (মৌখিক পরীক্ষা) হওয়া ৬ হাজার প্রার্থীর নিয়োগ ও বাকি ৬ হাজার প্রার্থীর বকেয়া ইন্টারভিউ দ্রুত নেওয়া হবে।
শুভেন্দু জানান, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও রাজনীতিমুক্ত রাখা হবে। অভিজ্ঞ আইএএস অফিসার দুষ্মন্ত নারিয়ালকে রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আজ থেকেই তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন। নিয়োগ কমিটিতে কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা অথবা কর্মী জায়গা পাবেন না। তফশিলি জাতি, উপজাতি ও ওবিসিদের জন্য নির্দিষ্ট সংরক্ষণ রস্টার মেনে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করবে রাজ্য সরকার।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির লাগামছাড়া ফ্রি বৃদ্ধি নিয়েও এদিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট বলেন, “শিক্ষাকে পণ্য হতে দেব না”। একইসঙ্গে জানান, এবার থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির নিয়মিত পরিদর্শন করা হবে। যথাযথ নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা, ফি সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে রয়েছে কিনা এসব খতিয়ে দেখার পর অনুমোদন রিনিউ করা হবে।
রাজ্যের ৮১ হাজার বিদ্যালয়ের ভোলবদলের কথাও এদিন ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, আগের সরকার কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি মানতে চায়নি। সেই কারণে কেন্দ্র টাকা দিতে চাইলেও রাজ্য সেই অর্থ পায়নি। তবে বর্তমান সরকার রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেছে। এর ফলে আগামী ৭ দিনের মধ্যে কেন্দ্রের আর্থিক অনুদান পেয়ে যাব। সেই অর্থ দিয়ে রাজ্যের ৮১ হাজার স্কুলের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে।

এছাড়া এদিন মিড ডে মিল নিয়েও বড় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে মিড ডে মিলে বড়সড় বদল আসছে। প্রাথমিকে দৈনিক বরাদ্দ বাড়িয়ে একধাক্কায় ১০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ১ আগস্ট থেকে কলকাতা সহ রাজ্যের একটি বৃহৎ অংশে মিড ডে মিলের দায়িত্ব নিচ্ছে ইসকন। তাঁরা নিজেদের তরফ থেকে এই প্রকল্পে আর্থিক ভর্তুকি দেবে। ফলে পড়ুয়ারা অত্যন্ত ভাল মানের পুষ্টিকর খাদ্য পাবে।
স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে শিক্ষা, ক্ষমতায় আসার পর থেকে একাধিক ক্ষেত্রে নজর দিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। আজ বিকাশ ভবনে হাইপ্রোফাইল বৈঠক শেষে শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়নে একগুচ্ছ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাতে যেমন বহু চাকরিপ্রার্থীর চিন্তা কিছুটা কমেছে, তেমনই পড়ুয়া ও অভিভাবকরাও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।













