‘বস’ যখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স! কর্মীর দেরির হিসাব কষে চাকরি কেড়ে নিল AI ম্যানেজার

Published on:

Published on:

Artificial Intelligence manager fires human employee after calculating delays.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: কাজের জায়গায় বস হিসেবে মানুষ নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আর সেই AI (Artificial Intelligence) ম্যানেজারের সিদ্ধান্তেই শেষ পর্যন্ত চাকরি হারালেন এক মানব কর্মী। এমনই চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছে আমেরিকার (America) স্যান ফ্রান্সিসকোর (San Francisco)একটি রিটেল স্টোরে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর কর্মক্ষেত্রে AI-এর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির উপর কতটা নির্ভর করা উচিত, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ এই ঘটনায় একজন কর্মীর চাকরি যাওয়ার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ‘লুনা’ নামে একটি AI ম্যানেজার।

কর্মীর দেরির হিসাব কষে চাকরি কেড়ে নিল AI (Artificial Intelligence) ম্যানেজার:

ঘটনাটি ‘অ্যান্ডন মার্কেট’ নামে একটি দোকানের। অ্যান্ডন ল্যাবস পরিচালিত এই রিটেল স্টোরটি গত এপ্রিল মাসে চালু হয়। দোকানের দৈনন্দিন কাজকর্ম দেখভালের জন্য ‘লুনা’কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অ্যানথ্রোপিকের ক্লড মডেলের উপর ভিত্তি করে তৈরি এই AI ব্যবস্থাকে যথেষ্ট স্বাধীনতাও দেওয়া হয়েছিল। দোকানের জন্য প্রায় ১ লক্ষ ডলারের বাজেট, একটি ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ এবং নজরদারি ক্যামেরার অ্যাক্সেস ছিল তার হাতে। পণ্যের মজুত ও বৈচিত্র্য, দাম নির্ধারণ, কর্মী নিয়োগ এবং কাজের সময়সূচি তৈরি করার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজেও AI-কে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন: মার্কিন সেনাকে হত্যা বা জীবিত ধরলেই মিলবে ৩০,০০০ ডলার! মহিলা হলে পুরস্কার দ্বিগুণ, ঘোষণা ইরানের

কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনাটি ঘটে তাঁর নিয়মিত কাজে দেরি করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। স্টোরটির হিসাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মী মোট ২৩ টি শিফটের মধ্যে ১৭টিতেই নির্ধারিত সময়ের পরে কাজে পৌঁছেছিলেন। বিষয়টি সামনে আসার পর কর্মীর কাজ চালিয়ে যাওয়ার উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর লুনাকে ওই কর্মীর কর্মদক্ষতা এবং উপস্থিতির রেকর্ড পর্যালোচনা করতে বলা হয়। সেই মূল্যায়নের পর AI ম্যানেজার কর্মীটিকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ চূড়ান্ত পদক্ষেপে মানুষের অনুমোদন থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় AI-এর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

তবে পুরো ঘটনাটি যতটা সরল বলে মনে হচ্ছে, বাস্তবে বিষয়টি ততটা সহজ ছিল না। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, লুনার নিজস্ব ‘ওয়ার্কিং মেমোরি’ বা কাজের সময় তথ্য ধরে রাখার ক্ষমতার কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। ফলে স্টোরের জন্য AI নিজেই যে কর্মী-সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরি করেছিল, সেটিও সবসময় ঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারছিল না। পরিস্থিতি পরিষ্কার করতে অ্যান্ডন ল্যাবস পরে লুনাকে তার তৈরি করা নীতিমালাগুলি ফের খুঁজে দেখতে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীকে সেই নিয়ম অনুযায়ী মূল্যায়ন করতে নির্দেশ দেয়। এরপরই কর্মীকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Artificial Intelligence manager fires human employee after calculating delays.

আরও পড়ুন: মৃত্যুর আগের দিন ১২ মিনিট কথা! আশিস কী জানিয়েছিলেন ঋতব্রতকে? সামনে এল অজানা তথ্য

এই ঘটনাকে ঘিরে তাই শুধু একজন কর্মীর চাকরি যাওয়ার বিষয় নয়, আরও বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে—ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে মানুষের ভাগ্য নির্ধারণে AI (Artificial Intelligence-এর ভূমিকা কতটা হওয়া উচিত? ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়ার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিঃসন্দেহে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। কিন্তু কর্মী নিয়োগ, মূল্যায়ন বা বরখাস্তের মতো সংবেদনশীল সিদ্ধান্তে AI-এর ভুল তথ্য, সীমিত মেমোরি কিংবা নীতিমালা বোঝার ঘাটতি বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। স্যান ফ্রান্সিসকোর এই ঘটনাই দেখিয়ে দিল, AI যতই ক্ষমতাশালী হোক, মানুষের চাকরি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিক নজরদারিও এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।