বাংলাহান্ট ডেস্ক: আগ্রার (Agra) এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে মাত্র ৫ লক্ষ টাকা সঞ্চয় দিয়ে নিজের ব্যবসার পথচলা শুরু করে সাফল্যের (Success Story) উচ্চতায় পৌঁছেছেন আমির মালিক (Aamir Malik)। আজ তাঁর তৈরি স্পিনবট মোবাইল গেমিং অ্যাকসেসরিজের বাজারে পরিচিত একটি ব্র্যান্ড। ২০১৯ সালে নয়ডায় নিজের বাড়ির একটি ঘর থেকেই শুরু হয়েছিল এই উদ্যোগ। সেই সময় ভারতে মোবাইল গেমিং দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছিল, আর ২০১৮ সালে PUBG ভারতে আসার পর গেমারদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন অ্যাকসেসরিজ নিয়ে কাজ করার সম্ভাবনা আমিরের নজরে আসে। সেই সুযোগকেই ব্যবসার ভিত্তি বানান তিনি। বর্তমানে SpinBot শুধু মোবাইল গেমিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং PC গেমিং এবং কনসোল অ্যাকসেসরিজের বাজারেও নিজেদের জায়গা তৈরি করেছে। এবার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ২৪-২৫ কোটি টাকার টার্নওভার করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে সংস্থাটি।
আমির মালিকের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
তবে ব্যবসা শুরু করার আগে আমিরের পথটা একেবারেই মসৃণ ছিল না। আগ্রার সেন্ট কনরাডস ইন্টার কলেজে পড়াশোনার পর ২০১২ সালে বি.টেক করেন তিনি। তাঁর ইচ্ছে ছিল সরকারি চাকরি করার। এসএসসি-সিজিএল পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার বদলে কর্পোরেট দুনিয়ায় পা রাখেন। পরে এমবিএ করেন এবং টাটা টেলিসার্ভিসে প্রোডাক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর একটি কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স সংস্থায় কাজ করার সময় প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, সোর্সিং এবং ই-কমার্স সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। গেমারদের মধ্যে মোবাইল অ্যাকসেসরিজের চাহিদা বাড়তে দেখে শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালে চাকরি ছেড়ে নিজের উদ্যোগ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন (Success Story)।
আরও পড়ুন: আমেঠিতে তৈরি AK-203 রাইফেলের গোলাবারুদ দেবে আদানির সংস্থা! অস্ত্রশক্তিতে আরও আত্মনির্ভর ভারত
শুরু থেকেই আমিরের লক্ষ্য ছিল শুধু বাজারে আরও একটি গেমিং পণ্য নিয়ে আসা নয়, বরং খেলতে গিয়ে গেমাররা যে সমস্যাগুলির মুখোমুখি হন, তার সমাধান করা। SpinBot-এর প্রথম পণ্য ছিল ক্যাপাসিটিভ গেমিং ট্রিগার। কোনও ব্লুটুথ সংযোগ বা আলাদা অ্যাপের প্রয়োজন ছাড়াই এই ডিভাইস BGMI এবং Free Fire-এর মতো গেমে অতিরিক্ত টাচস্ক্রিন কন্ট্রোলের সুবিধা দিত। পণ্যটি গেমারদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়। এমনকি TechBurner এবং Beebom-এর মতো প্রযুক্তি বিষয়ক জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেলও কোনও অর্থের বিনিময়ে প্রচার না করেই পণ্যটির রিভিউ করে। এরপর একের পর এক নতুন পণ্য বাজারে আনে SpinBot। ৪৫টিরও বেশি পণ্যের মধ্যে রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির IceDot Mobile Cooler এবং টাচস্ক্রিনে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর জন্য তৈরি অতি-পাতলা Finger Sleeves।
ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য বড় ধাক্কাও আসে। করোনা অতিমারির সময় লকডাউনের কারণে চীন ও ভিয়েতনাম থেকে পণ্য ও যন্ত্রাংশ আনার সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত ব্যাহত হয়ে পড়ে। অথচ সেই সময় ঘরে থাকার কারণে গেমিংয়ের চাহিদা ছিল অত্যন্ত বেশি। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর ২০২০ সালে ভারতে PUBG নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ায় SpinBot-এর ব্যবসায় আরও বড় প্রভাব পড়ে। তখনই আমির বুঝতে পারেন, কোনও একটি গেম বা প্ল্যাটফর্মের উপর ব্যবসাকে নির্ভর করিয়ে রাখা ঠিক হবে না। BGMI ফিরে আসার পর দ্রুত পণ্যের তালিকায় বৈচিত্র্য আনেন তিনি। নিজস্ব ওয়েবসাইটের পাশাপাশি Amazon, Flipkart, Blinkit এবং Instamart-এর মতো প্ল্যাটফর্মে পণ্য বিক্রি শুরু হয়। ধীরে ধীরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের বাজারেও পৌঁছে যায় স্পিনবট।

আরও পড়ুন:ইউরোপের মাটি থেকে প্রথম বাণিজ্যিক রকেট উৎক্ষেপণ! নজির গড়ল এই দেশ
প্রতিদিন প্রায় ১৫ ঘণ্টা কাজ করে এবং ইউটিউব দেখে নিজেই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কৌশল শিখে ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যান আমির। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষেই স্পিনবট-এর নিট বিক্রি ৬৬.৫ লক্ষ টাকায় পৌঁছয়। পরবর্তী সময়ে ব্যবসার পরিমাণ আরও বাড়ে এবং বিভিন্ন অর্থবর্ষে আয় ৯০ লক্ষ, ৩.৮ কোটি, ৫.৫ কোটি এবং সর্বশেষ ১৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে সংস্থার দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়। বর্তমানে গড় মাসিক বিক্রি প্রায় ২ কোটি টাকা। ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ২৪-২৫ কোটি টাকার টার্নওভারের লক্ষ্যে এগোচ্ছে ব্র্যান্ডটি। প্রথম দিন থেকেই নিজস্ব অর্থে ব্যবসা চালানো স্পিনবট বর্তমানে EBITDA-positive। এবার অনলাইন বাজারের পাশাপাশি Croma এবং Vijay Sales-এর মতো বড় অফলাইন স্টোরে প্রবেশের প্রস্তুতিও নিচ্ছে সংস্থাটি। আমিরের এই যাত্রা দেখাচ্ছে, বড় পুঁজি নয়—সঠিক বাজারের চাহিদা বুঝে ধৈর্য ও পরিকল্পনা নিয়ে এগোলেও ছোট পরিসর থেকে বড় ব্র্যান্ড তৈরি করা সম্ভব (Success Story)।













