বাংলা হান্ট ডেস্ক : নিউ ফারাক্কায় রেলপথে ধস নামার পর উত্তরবঙ্গের ট্রেন পরিষেবা (North Bengal Train) সচল রাখতে বিকল্প পথের উপর নির্ভর করতে হয়েছিল পূর্ব রেলকে। সেই সময় অন্য রুট দিয়ে ট্রেন ঘুরিয়ে দেওয়ার যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তাতে আশানুরূপ ফল মিলেছে। এবার সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের জন্য বিকল্প রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার কথা ভাবছে রেল কর্তৃপক্ষ।
উত্তরবঙ্গের ট্রেন (North Bengal Train) নিয়ে নয়া পরিকল্পনা
মূল লাইনে সমস্যা তৈরি হলে ব্যান্ডেল থেকে কাটোয়া ও আজিমগঞ্জ হয়ে নিউ ফারাক্কার দিকে কয়েকটি ট্রেন পাঠানো হয়েছিল। অন্যদিকে নলহাটি হয়েও আজিমগঞ্জের সঙ্গে সংযোগ রেখে ট্রেন চালানো হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থায় পরিষেবা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হওয়ায় এখন নিয়মিতভাবেও এই পথ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রেলের পরিকল্পনায় রয়েছে বর্ধমান-বোলপুর-রামপুরহাটের প্রচলিত পথের পাশাপাশি আজিমগঞ্জ করিডরকে কাজে লাগানো। এই রুট দিয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে আরও ট্রেন চালানো যায় কি না, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। তবে শুধুমাত্র যাতায়াতের সুবিধা নয়, যাত্রী সংখ্যা এবং রেলের আয়-ব্যয়ের হিসাবও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে বর্ধমান-বোলপুরমুখী ট্রেনে সাধারণত যাত্রীর চাপ বেশি থাকে। সেই তুলনায় কাটোয়া-আজিমগঞ্জ লাইনে ভিড় কম।
আরও একটি সুবিধা রয়েছে আজিমগঞ্জ করিডরে। এই পথে মালগাড়ির আনাগোনা তুলনামূলক কম হওয়ায় যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে লাইনে অতিরিক্ত চাপ পড়ার আশঙ্কা কম। ফলে প্রয়োজনে এই রুটকে ব্যবহার করে হাওড়া ও শিয়ালদহের সঙ্গে মালদা ডিভিশনের যোগাযোগও আরও কার্যকর করা যেতে পারে বলে মনে করছে পূর্ব রেল। এই বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার সুফল শুধু উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদের বাসিন্দারাও এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন।

আরও পড়ুন : কলকাতায় ফিরেছিলেন ২০ বছর পর, এবার দশমের প্রশ্নপত্রে তসলিমা! দেখে কী বললেন লেখিকা?
বর্ধমান-বোলপুর লাইনের যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পণ্যবাহী ট্রেন চলে। ফলে ব্যস্ত সময়সূচির কারণে অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীবাহী ট্রেনের গতি কমে যায়। এই চাপ ভাগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই অন্য রুটগুলিকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় আরও একটি সংযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিয়ালদহ থেকে উত্তরবঙ্গে দ্রুত পৌঁছনোর ক্ষেত্রে রানাঘাট, মুর্শিদাবাদ ও আজিমগঞ্জের নশীপুর হয়ে যাওয়া রুটটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যতে এই পথ কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে কলকাতার রেল যোগাযোগে নতুন বিকল্প তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।













