বাংলা হান্ট ডেস্ক : রোজকার মিড ডে মিলের (Mid Day Meal) খাবার পড়ুয়াদের একঘেয়ে লাগে। তাই শিক্ষকদের কাছে আবদার করেছিল একটি বিশেষ খাবারের। সরকারি বরাদ্দে স্বাদ মেটানোর সামর্থ্য না থাকলেও, শিক্ষকরা নিজেদের পকেট থেকে টাকা বের করে দিল পড়ুয়াদের খুশি করতে।
মিড ডে মিলে (Mid Day Meal) বিরিয়ানি পেয়ে বেজায় খুশি পড়ুয়ারা
স্কুলে এমন দিন যে আসতে পারে, তা হয়তো ভাবেনি পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের রাজারামপুর জুনিয়র বেসিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। সেদিন মিড ডে মিলের খাবারে ছিল বিরিয়ানি। এই বিশেষ আয়োজনের নেপথ্যে রয়েছে খুদেদের দীর্ঘদিনের আবদার। পড়ুয়ারা বারবার শিক্ষকদের কাছে বিরিয়ানি খাওয়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। সরকারি মিড-ডে মিলের বরাদ্দ থেকে সেই আয়োজন করা সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত নিজেদের উদ্যোগেই সমস্যার সমাধান করেন শিক্ষকরা।
প্রত্যেক শিক্ষক সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা দিয়ে চাঁদা তোলেন এবং সেই অর্থেই পড়ুয়াদের জন্য দুপুরের বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপকুমার ভুঁইঞা জানান, “অনেকদিন ধরে ওরা আবদার করেছিলো বিরিয়ানি খাওয়ানোর। মিড-ডে মিলের টাকায় বিরিয়ানি খাওয়ানো তো সম্ভব নয়। আমরা স্কুলের শিক্ষকরা কিছু কিছু করে অর্থ দিয়ে পড়ুয়াদের আবদার মেটালাম। ওদের খুশিতে আমরা ভীষণ খুশি।”
খাবারের আয়োজনের পাশাপাশি প্রস্তুতির সময়েও বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল। রান্নায় ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিজে বাজার থেকে সংগ্রহ করেন মিড-ডে মিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত লালবাহাদুর বিজলী। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতে বিরিয়ানি রান্না হয়। তার জন্য সকাল থেকে বাজারে গিয়ে নিজে হাতে সবকিছু কেনাকাটা করেছি।” রান্নার কাজে যুক্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকারাও সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন।

আরও পড়ুন : ঝুলেই রইল ভাগ্য! মমতার মামলায় সিদ্ধান্ত নিলেন না প্রধান বিচারপতি, ফেরত সিঙ্গেল বেঞ্চে
মিড ডে মিলের খাবার পরিবেশন শুরু হতেই গোটা স্কুল চত্বর মুখর হয়ে ওঠে খুদেদের আনন্দে। এতদিনের আবদার অবশেষে পূরণ হওয়ায় খুশি পড়ুয়ারা। রাজারামপুর জুনিয়র বেসিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। বর্তমানে সেখানে মোট ১৬৯ জন পড়ুয়া রয়েছে। পড়ুয়াদের ছোট্ট ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষকরা যে ভাবে নিজেদের উদ্যোগে তা পূরণ করলেন, তাতেই তৈরি হল পড়ুয়াদের বিশেষ দিন।













