বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ২০২৮ সালের অগাস্ট মাসের মধ্যে কর্মরত শিক্ষকদের টেট (In Service Teacher TET) নিতে হবে। সেই ডেডলাইন সামনে রেখে এবার প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক স্তরের ইন সার্ভিস শিক্ষক শিক্ষিকাদের টেট (Teacher Eligibility Test) নেওয়ার তোড়জোড় শুরু করল রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশন ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে চিঠি দিয়েছে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর।
কর্মরত শিক্ষকদের টেটের তোড়জোড় শুরু | (In Service Teacher TET)
বিকাশ ভবনের তরফে এসএসসি ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে পাঠানো চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে কর্মরত শিক্ষকদের টেট পরীক্ষা কবে নেওয়া সম্ভব। কমিশন ও পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের তরফে দ্রুত টেটের দিনক্ষণ দফতরকে জানানো হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ জেন-জির মন জয়ে রাজ্যে প্রথম এন-জেন পোস্ট অফিস! কী কী সুবিধা মিলবে জানেন?
এই বিষয়ে পর্ষদের এক আধিকারিক বলেন, “শুক্রবার দফতরের তরফে নির্দেশিকা এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো ২০২৮ সালের অগাস্ট মাসের মধ্যে টেট পরীক্ষা নিতে হবে। আমাদের কাছে দফতর দিনক্ষণ জানতে চেয়েছে। সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা দফতরকে জানিয়ে দেব।“
এদিন আজ দুপুরে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই চিন্তায় পড়েছেন রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষক। ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন তথা এনসিটিইর নির্ধারিত নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা তাঁদের চিন্তার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, আজ থেকে প্রায় ১৫ বা ২০ বছর আগে চাকরি পাওয়া বহু শিক্ষক শিক্ষিকার বর্তমান টেট পরীক্ষায় বসার মতো শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা নেই। ফলে সেক্ষেত্রে কি তাঁদের চাকরি চলে যাবে? অনেকের মনেই দেখা দিয়েছে এই প্রশ্ন।
শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯ ও এনসিটিইর বিধি অনুযায়ী দেশের প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের টেট পাশ করা বাধ্যতামূলক। তবে শিক্ষকদের একাংশের দাবি, ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন ২০১০ সালে কার্যকর হয়েছে। সেই আইন অনুসারে এনসিটিই বিধি তৈরি করে। ২০১১ সালের জুলাই মাসে পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষকদের যোগ্যতা সংক্রান্ত এই নিয়ম চালু হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, টেট বাধ্যতামূলক।
সেই কারণে শিক্ষকদের একাংশের দাবি, ওই সময়সীমার আগে যারা শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন তাঁদের এই টেটের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হোক। এই নিয়ে নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সহ একাধিক সংগঠন শীর্ষ আদালতে রিভিউ পিটিশন দাখিল করলেও কোনও লাভ হয়নি। গত বছর এক রায়ে আদালত জানিয়ে দেয়, দেশের প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে টেট পাশ করা বাধ্যতামূলক।

সুপ্রিম কোর্ট প্রথমে নির্দেশ দেয়, টেট পাশ নন এমন শিক্ষকদের প্রাথমিকভাবে ২০২৭ সালের মধ্যে উত্তীর্ণ হতে হবে। পরবর্তীতে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৮ সাল অবধি করা হয়। তবে যেসব শিক্ষক-শিক্ষিকার অবসরে আর পাঁচ বছর বা তার কম সময় রয়েছে তাঁদের এই নির্দেশের বাইরে রাখা হয়েছিল।
এবার সুপ্রিম নির্দেশ মতো কর্মরত শিক্ষকদের টেট নেওয়ার তোড়জোড় শুরু করল রাজ্য সরকার। এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে একাধিক শিক্ষক সংগঠন। টেট বিরোধী লড়াই জারি থাকবে বলে জানিয়েছেন নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল।













