বাংলা হান্ট ডেস্ক : পুজোর মুখে হুগলির ব্রেথওয়েট কারখানার (Braithwaite Company) শ্রমিকদের জন্য এল বড়সড় স্বস্তির খবর। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে। একই ধরনের কাজের জন্য স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের মধ্যে যে বিস্তর বেতন ফারাক মিটে যেতে, খুশির হাওয়া কারখানা চত্বরে। বৃহস্পতিবার সেই আনন্দে আবির খেললেন শ্রমিকরা, চলল মিষ্টিমুখও।
ব্রেথওয়েট কারখানার (Braithwaite Company) শ্রমিকদের সম বেতন
ব্রেথওয়েটের শ্রমিকদের বক্তব্য, এতদিন একই দায়িত্ব সামলালেও তাঁদের আয় স্থায়ী কর্মীদের তুলনায় অনেকটাই কম ছিল। কারখানায় স্থায়ী কর্মী রয়েছেন ৩০ জন। অন্যদিকে চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করেন ৬১ জন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, কাজের ধরন প্রায় এক হলেও পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে বড় বৈষম্য বজায় ছিল। এবার নতুন বেতন কাঠামোয় সেই ব্যবধান অনেকটাই ঘুচেছে।
শ্রমিকদের এই সমস্যার বিষয়টি কেন্দ্রীয় শ্রম দফতরের নজরেও আসে। গত ৬ জুন কলকাতার রবীন্দ্র সদনে এ নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ব্রেথওয়েট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদেরও ডাকা হয়। বৈঠকে কর্মীদের ক্ষেত্রে সমকাজে সমবেতন নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেক কর্মীকে নিয়োগপত্র এবং বেতনের হিসাব সংক্রান্ত পে-স্লিপ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
পরিবর্তনের আগে রাজ্য নির্ধারিত মজুরি অনুসারেই টাকা পেতেন চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকরা। প্রশিক্ষণ না থাকা কর্মীদের দৈনিক পারিশ্রমিক ছিল ৭৮৪ টাকা। দক্ষ কর্মীদের জন্য সেই হার ছিল ১,০০০ টাকা। মাসে গড়ে ২৬ দিন কাজের হিসাব ধরলে এবং কোথাও অতিরিক্ত সময় কাজের সুযোগ থাকলেও মোট উপার্জন খুব বেশি হত না। অনেক শ্রমিকের মাসিক আয় আট থেকে দশ হাজার টাকার আশপাশেই আটকে থাকত। নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর সেই ছবিতে বড় পরিবর্তন এসেছে বলে শ্রমিকদের দাবি।
চলতি মাস থেকেই তাঁদের মাসিক আয় আগের তুলনায় প্রায় তিনগুণ হয়েছে। আর সেই পরিবর্তনই উৎসবের আগে তাঁদের কাছে বাড়তি আনন্দের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবির পর বেতন বৃদ্ধির খবর পাওয়ায় বৃহস্পতিবার কারখানায় উৎসবের পরিবেশ দেখা যায়। কারখানার স্থায়ী শ্রমিক কৌশিক চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা খুশি, ম্যানেজমেন্টও খুশি। চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের পাশাপাশি ঠিকা শ্রমিকদেরও বেতন বাড়লে আরও ভালো লাগবে। এখন প্রায় ২৫০ জন ঠিকা শ্রমিক কাজ করেন ব্রেথওয়েটে।”

আরও পড়ুন :আমদানি বন্ধ, রপ্তানিতেও মেলেনি ছাড়পত্র, পুজোয় পদ্মার ইলিশ নিয়ে বাড়ছে ধোঁয়াশা
রেল মন্ত্রকের অধীন এই কারখানাটি ২০০৬ সাল থেকে রেলের উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। রেলের পরিকাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরির কাজ হয় এখানে। মালগাড়ির ওয়াগান, বগি ও কনটেনারের পাশাপাশি ক্রেন, ব্রিজ, কাপলার এবং বিভিন্ন ধরনের কাস্টিংও তৈরি করা হয় ব্রেথওয়েটে। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের পর এবার ঠিকা শ্রমিকদের পারিশ্রমিক নিয়েও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে তাঁদের একাংশের।













