Durga Puja 2026 Live Updates

ভারতের চাল রফতানির দাম বাড়তেই সমগ্র এশিয়ায় আলোড়ন! প্রবল চাপে বাংলাদেশও

Published on:

Published on:

A surge in India's rice export prices has caused a stir across all of Asia!
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিশ্ববাজারে চালের দামে (Rice  Export Prices) ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় মুদ্রার শক্তিশালী হওয়া এবং ধানের জোগান নিয়ে উদ্বেগের জেরে এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে ভারতের (India) চাল রফতানির দাম। অন্যদিকে, ভিয়েতনামে (Vietnam) চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে সেখানকার চালের দামও প্রায় দু’মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে এশিয়ার প্রধান চাল রফতানিকারক দেশগুলিতে দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতাতেও। এদিকে, বাংলাদেশে চালের দাম বাড়ায় সাধারণ ক্রেতাদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে চালের এই দামবৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

ভারতের চাল রফতানির দাম (Rice Export Prices) বাড়তেই সমগ্র এশিয়ায় আলোড়ন!

ভারতের বাজারে চালের দাম বৃদ্ধির পিছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সীমিত সরবরাহ এবং উৎপাদন নিয়ে আশঙ্কা। চলতি সপ্তাহে ভারতীয় সিদ্ধ চালের (৫ শতাংশ ভাঙা) দাম প্রতি টন ৩৮৪ থেকে ৩৮৯ ডলারের মধ্যে ছিল। গত সপ্তাহে এই দাম ছিল ৩৭৮ থেকে ৩৮৪ ডলার। অন্যদিকে, ভারতীয় সাদা চালের (৫ শতাংশ ভাঙা) দাম প্রতি টন ৩৮৫ থেকে ৩৯০ ডলারে পৌঁছেছে। মুম্বইয়ের এক রফতানিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ সীমিত থাকায় ধানের দামও স্থিতিশীল রয়েছে। পাশাপাশি, দেশের একাধিক রাজ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাজারে জোগান নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য ভারতীয় চালের দামও বাড়ছে।

আরও পড়ুন: IIT-তে পড়াশোনার পর চাকরির সুযোগ ছেড়ে UPSC-র প্রস্তুতি! প্রথমবারেই সফল হয়ে IAS হলেন ক্ষিতিজ

ভিয়েতনামের চালের বাজারেও চলতি সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম প্রতি টন ৪৪০ থেকে ৪৫০ ডলারে পৌঁছেছে। এক সপ্তাহ আগে এই চালের দাম ছিল ৪২০ থেকে ৪৩০ ডলার। ফলে গত ২১ অগস্টের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে ভিয়েতনামের চালের রফতানি দর। এর পিছনে সম্ভাব্য চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। হো চি মিন সিটির এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে নভেম্বর থেকে ফিলিপাইন ফের ভিয়েতনাম থেকে চাল কেনা শুরু করতে পারে। যদিও এই সম্ভাব্য ক্রয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি, তবুও তা বাজারে প্রত্যাশা বাড়িয়েছে। ভিয়েতনামের কৃষি মন্ত্রকের এক আধিকারিকও আশা প্রকাশ করেছেন, বছরের বাকি সময়ে চাল রফতানি শক্তিশালী থাকবে এবং দেশটি ৮০ লক্ষ টন চাল রফতানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবে।

থাইল্যান্ডেও চালের দাম বেড়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির ৫ শতাংশ ভাঙা চাল প্রতি টন ৪৮০ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা ১০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। গত সপ্তাহে এই চালের দাম ছিল ৪৬৫ থেকে ৪৬৮ ডলারের মধ্যে। ব্যাংককের এক চাল ব্যবসায়ীর মতে, চালের চালান নিতে জাহাজের আগমন এবং কয়েকটি রফতানিকারী সংস্থার অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণে দাম বেড়েছে। পাশাপাশি, বন্যার কারণে চাল বোঝাইয়ের কাজে দেরি হয়েছে। অফ-সিজন ফসল কাটার সময়ও প্রায় শেষের দিকে। ফলে প্রয়োজনীয় চালের জোগান নিশ্চিত করতে কিছু রফতানিকারীকে বাড়তি পরিমাণে চাল কিনতে হয়েছে। এই পরিস্থিতি বাজারে চাহিদার চাপ বাড়িয়ে দামের ঊর্ধ্বগতিতে ভূমিকা রেখেছে।

A surge in India's rice export prices has caused a stir across all of Asia!

 পড়ুন: জল্পনার অবসান! জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইন্ডি জোটের বিক্ষোভে শামিল বিজয়ের দল টিভিকে

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম (Rice Export Prices) বাড়লেও সব রফতানিকারী দেশ সমান সুবিধা পাচ্ছে না। থাই রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতে, প্রধান ক্রেতাদের কাছ থেকে দুর্বল চাহিদা এবং ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণে এ বছর থাইল্যান্ডের চাল রফতানি ৭০ লক্ষ টনের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে ব্যর্থ হতে পারে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বাজারে গত সপ্তাহে প্রিমিয়াম চালের দাম প্রতি কেজিতে ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৪-৭৫ টাকা হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ধানের দাম বাড়াকে এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দামের ওঠানামা, উৎপাদনের অনিশ্চয়তা এবং পরিবহণের সমস্যার দিকে নজর রাখছেন ব্যবসায়ীরা। আগামী দিনে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য কীভাবে বদলায়, তার উপরই চালের বাজারের গতিপ্রকৃতি অনেকটা নির্ভর করবে।