Durga Puja 2026 Live Updates

নিয়মমাফিক লেনদেনের নেপথ্যে কোটি কোটি টাকা চুরি! অবিশ্বাস্য কাণ্ড সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কে

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ব্যাঙ্কের নথিতে স্বাভাবিক লেনদেনের কোনও অস্বাভাবিক চিহ্ন নেই। অথচ সেই ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকেই উধাও হয়ে গিয়েছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা! এমনই চাঞ্চল্যকর আর্থিক জালিয়াতির (Financial fraud) অভিযোগ সামনে এসেছে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে (Central Bank of India) ঘিরে। জানা গিয়েছে, মাত্র তিন দিনের মধ্যে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (Reserve Bank of India) সেটলমেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে ১৩.৯৭ কোটি টাকা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, ব্যাঙ্কের বিভিন্ন পরিষেবা ও প্ল্যাটফর্মে খোঁজ করেও সংশ্লিষ্ট লেনদেনগুলির কোনও স্পষ্ট হদিশ মেলেনি বলে সূত্রের খবর। এই ঘটনায় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ সরানো হল এবং কেন তার কোনও স্বাভাবিক লেনদেনের রেকর্ড পাওয়া যাচ্ছে না, আপাতত সেই রহস্যেরই কিনারা করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কে (Central Bank of India) কীভাবে হল ১৪ কোটি টাকার জালিয়াতি?

ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে মোট ১৮৭টি লেনদেনের মাধ্যমে এই অর্থ সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ। লেনদেনগুলির উৎস ছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সেটলমেন্ট অ্যাকাউন্ট, যার মাধ্যমে ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের নিষ্পত্তি হয়। অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (Central Bank of India) অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৩.৯৭ কোটি টাকা মোট ৩৬টি পৃথক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এতগুলি লেনদেনের পরেও সংশ্লিষ্ট অর্থ কীভাবে স্থানান্তরিত হল, তার স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে, যে ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেনগুলি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে, সেই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত তথ্য খতিয়ে দেখেও ব্যাঙ্কের কর্তারা এখনও পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা খুঁজে পাননি বলে খবর।

সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কে (Central Bank of India) কীভাবে হল ১৪ কোটি টাকার জালিয়াতি?

এই ঘটনায় লেনদেনের সংখ্যার বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। জানা গিয়েছে, ১৫ অক্টোবর প্রথম দিন মাত্র ছ’টি লেনদেনের মাধ্যমে টাকা সরানো হয়েছিল। কিন্তু পরের দু’দিনে সেই সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যায়। ১৬ অক্টোবর ৮৮টি এবং ১৭ অক্টোবর ৯৩টি লেনদেন হয় বলে সূত্রের দাবি। অর্থাৎ, মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ধারাবাহিকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরানোর অভিযোগ উঠেছে। অথচ ব্যাঙ্কের শাখা, মোবাইল ব্যাঙ্কিং, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং কিংবা ইউপিআই পরিষেবায় সংশ্লিষ্ট লেনদেনগুলির কোনও চেনা রেকর্ড পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, প্রচলিত ব্যাঙ্কিং পরিষেবার বাইরে কোনও পদ্ধতিতে এই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছিল কি না, নাকি অন্য কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটির সুযোগ নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে তদন্তকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, টাকা সরানোর প্রক্রিয়াটি ঠিক কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, তা শনাক্ত করা। সাধারণত আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তথ্য ও নথির সূত্র ধরে অর্থের গতিপথ অনুসরণ করা সম্ভব হয়। কিন্তু এই ঘটনায় লেনদেনের স্পষ্ট রেকর্ড না মেলায় তদন্ত জটিল হয়ে উঠেছে বলে সূত্রের খবর। অর্থ কোন কোন অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছে, সেই অ্যাকাউন্টগুলির সঙ্গে কারা যুক্ত এবং লেনদেনের পিছনে কোনও সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জালিয়াতির পদ্ধতি বা জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

How did a fraud of Rs 14 crore take place at the Central Bank of India?

 

আরও পড়ুন: মক্কা-মদিনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা! সৌদিতে থাকা ভারতীয়দের জন্য দিল্লির জরুরি সতর্কবার্তা

এই ঘটনার পর সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (Central Bank of) আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এত অল্প সময়ে ১৮৭টি লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ১৪ কোটি টাকা সরানোর অভিযোগ সত্ত্বেও কেন দ্রুত বিষয়টি শনাক্ত করা গেল না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। আগামী বছর ব্যাঙ্কটির অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হচ্ছে। যদিও সেই পরিকল্পনার সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগসূত্র রয়েছে, এমন তথ্য এখনও সামনে আসেনি। আপাতত তদন্তকারীদের লক্ষ্য অর্থের গতিপথ চিহ্নিত করা এবং এই ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করা। ব্যাঙ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তার উত্তর মিললেই স্পষ্ট হবে নিরাপত্তাব্যবস্থার কোথায় ফাঁক থেকে গিয়েছিল।