Durga Puja 2026 Live Updates

দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিল পুলিশ! জারি হয় রেড নোটিসও, সুদূর আমেরিকা থেকে গ্রেফতার ভারতের গ্যাংস্টার

Published on:

Published on:

Indian gangster Himangshu Bhau arrested in America
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের (India) তদন্তকারী সংস্থাগুলির দীর্ঘদিনের খোঁজের অবশেষে কি এ বার দেশে ফিরতে চলেছেন গ্যাংস্টার হিমাংশু ভাউ (Himangshu Bhau)? আমেরিকায় তাঁর গ্রেফতারির খবর সামনে আসতেই এই প্রশ্ন ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে। ভারতের অন্যতম ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধী হিসেবে পরিচিত হিমাংশু ভাউ ওরফে হিমাংশু রিটোলিয়াকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI) গ্রেফতার করেছে বলে খবর। দিল্লি, হরিয়ানা-সহ দেশের একাধিক এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তদন্তকারীদের চোখ এড়িয়ে বিদেশে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, বিদেশে বসেই ভারতের মাটিতে নিজের অপরাধের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন হিমাংশু। তাঁর গ্রেফতারি সত্যি হলে, তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আমেরিকা থেকে গ্রেফতার ভারতের গ্যাংস্টার হিমাংশু ভাউ (Himangshu Bhau)

হরিয়ানার রোহতক জেলার রিটোলি গ্রামের বাসিন্দা হিমাংশুর (Himangshu Bhau) অপরাধজগতে প্রবেশের ইতিহাসও বেশ পুরনো। কৈশোরেই অপরাধমূলক কাজকর্মের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ে বলে তদন্তকারীদের দাবি। ২০২০ সালে একটি কিশোর সংশোধনাগার থেকে আরও কয়েক জন বন্দির সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পরবর্তী সময়ে খুন, খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি, প্রতারণা এবং ভয় দেখানোর মতো একাধিক গুরুতর অপরাধে তাঁর নাম উঠে আসে। বিভিন্ন মামলায় তাঁকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সব মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৮টি মামলা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। দিল্লি পুলিশ, হরিয়ানা পুলিশ এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-র নজরেও ছিলেন এই গ্যাংস্টার। ২০২৩ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি করা হয়, যাতে আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা এবং তাঁকে আটক করার প্রক্রিয়া সহজ হয়।

আরও পড়ুন: দৈনিক আয় ছিল ৩০ টাকা! আজ ১১,০০০ কোটির সাম্রাজ্যের মালিক, চমকে দেবে রাজিন্দরের কাহিনি

তদন্তকারীদের দাবি, দেশ ছাড়ার পরেও হিমাংশুর অপরাধমূলক কার্যকলাপ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং বিদেশে অবস্থান করেই দিল্লি, হরিয়ানা এবং পঞ্জাবে নিজের যোগাযোগ ও অপরাধের নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। একাধিক শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনা এবং তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগেও বিভিন্ন সময়ে তাঁর নাম জড়িয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, দেশের বাইরে থেকেও সহযোগীদের মাধ্যমে অপরাধের পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করতেন তিনি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে প্রমাণসাপেক্ষ। এফবিআইয়ের হাতে গ্রেফতারির খবর সামনে আসার পর তাই ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির নজর এখন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে।

হিমাংশু ভাউয়ের নাম আরও একটি কারণে অপরাধজগতে বিশেষভাবে আলোচিত। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, তিনি নীরজ ভওয়ানার গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত এবং এই গোষ্ঠী লরেন্স বিশ্নোইয়ের নেতৃত্বাধীন অপরাধচক্রের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। তবে গ্যাংস্টারদের পারস্পরিক শত্রুতা ও অপরাধমূলক যোগাযোগের বিষয়গুলি তদন্তের ভিত্তিতেই বিচার করা প্রয়োজন। হিমাংশুর বিরুদ্ধে জারি হওয়া ইন্টারপোলের রেড নোটিসের অর্থও স্পষ্টভাবে বোঝা জরুরি। রেড নোটিস কোনও আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা নয়। এটি মূলত কোনও অভিযুক্ত বা পলাতক ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা এবং প্রত্যর্পণ বা অনুরূপ আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সাময়িকভাবে আটক করার ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলির সহযোগিতা চাওয়ার ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হয়।

Indian gangster Himangshu Bhau arrested in America

আরও পড়ুন: মক্কা-মদিনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা! সৌদিতে থাকা ভারতীয়দের জন্য দিল্লির জরুরি সতর্কবার্তা

আমেরিকায় হিমাংশু ভাউয়ের (Himangshu Bhau) গ্রেফতারির খবর নিশ্চিত হলে, তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে নয়াদিল্লি। সে ক্ষেত্রে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নথি ও অভিযোগের বিবরণ দিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানাতে হবে। এরপর দুই দেশের আইন এবং প্রযোজ্য প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে গ্রেফতারির খবর সামনে এলেও এখনই তাঁকে ভারতে ফেরানো নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যায় না। তবে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক অভিযুক্তকে বিদেশে আটক করা সম্ভব হলে তদন্তের ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। হিমাংশুকে দেশে ফিরিয়ে আনা গেলে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এখন দেখার, আমেরিকার সঙ্গে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত এগোয় এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের হাতে তাঁকে তুলে দেওয়া সম্ভব হয় কি না।