বাংলা হান্ট ডেস্ক : গঙ্গার ভাঙন ও ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে এবার কেন্দ্রীয় স্তরে তৎপরতা বাড়ল। মঙ্গলবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের বৈঠকে যোগ দিয়ে নদীভাঙন মোকাবিলায় একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এই আলোচনায় শুধু বাংলা নয়, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীরাও অংশ নেন।
ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)?
বৈঠক শেষে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের কাজ কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান শুভেন্দু। পাশাপাশি গঙ্গার ভাঙন ঠেকাতে নতুন পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের কাজ কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে।”
এই প্রকল্পের পরিকল্পনা তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হবে আইআইটি কানপুর ও আইআইটি রূড়কিকে। পরিকল্পনা তৈরির পর দ্রুত কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে গঙ্গার ভাঙন প্রতিরোধে ১২টি স্পার নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও সামনে আসে। নদীর পলি সরানো এবং ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলিকে সুরক্ষিত করার বিষয়ও বৈঠকের আলোচনায় ছিল।
উল্লেখ্য, গঙ্গার ভাঙনে মালদহের একাধিক এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চলতি বছরের বর্ষায় কালিয়াচকের ভূতনিচর এলাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পুজোর আগে মুখ্যমন্ত্রী ওই এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয়দের জন্য একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছিলেন। সম্প্রতি মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল মালদহে গিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। ভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট জমা দেন। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের জন্য চলতি আর্থিক বছরে ১,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রকল্পের কাজ ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার কথা। এই কাজের সঙ্গে স্থানীয় স্তরে সমন্বয় বজায় রাখতে ঘাটাল, চন্দ্রকোনা ও দাসপুরের বিধায়কদের নিয়ে একটি দলও তৈরি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : ‘আইন হাতে নিলে…’ এনকাউন্টার বিতর্কের মাঝেই কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
প্রসঙ্গত, নদীভাঙন ও বন্যার কারণে প্রতি বছরই বহু মানুষকে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। তাই শুধু পরিকল্পনা ঘোষণা নয়, সময়মতো কাজ শুরু করা এবং তার অগ্রগতি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। দিল্লির বৈঠকে যে উদ্যোগগুলির কথা উঠে এসেছে, সেগুলি বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, তার দিকেই নজর থাকবে গঙ্গার তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের।














