বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন করে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠছে, প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে কিছু নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে এবং রাজ্যের শাসকদল আইনি লড়াইয়ের পথেও হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে।
৯০ লক্ষ নাম বাদ নিয়ে তীব্র অভিযোগ (West Bengal Assembly Election 2026)
সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) দাবি করেন, প্রায় ৯০ লক্ষ নাম বাদ পড়ার মধ্যে ৬৩ শতাংশই হিন্দু বাঙালির। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে সাধারণ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং পরিকল্পনা করে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলা অন্য রাজ্যের মতো নয়, এখানে মানুষ প্রতিবাদ করতে জানে। তাঁর মতে, এই ঘটনার প্রভাব ভবিষ্যতে ভোটবাক্সে (West Bengal Assembly Election 2026) পড়বে এবং মানুষই এর জবাব দেবে।
অন্যদিকে, এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, মতুয়া, রাজবংশী এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে বিশেষভাবে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বেছে বেছে এই সম্প্রদায়ের মানুষদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর প্রায় ৩২ লক্ষ নাম ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও অনেকের নাম বাদ রয়েছে, এবং তাঁদের অধিকার ফেরাতে প্রয়োজনে অ্যাপেলিয়েট ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, যারা বহু বছর ধরে দেশে বসবাস করছেন, তাঁদের কেন নতুন করে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কোনও বৈধ ভোটারকে বাংলা থেকে বাদ পড়তে দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুনঃ ৯১ লক্ষ নাম বাদ! বঙ্গের ভোটার তালিকা কি ফের খুলবে সুপ্রিম কোর্ট?
তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনাকে তারা কেবল প্রশাসনিক ত্রুটি হিসেবে দেখছে না। বরং এটি বাঙালির অধিকার ও পরিচয়ের উপর আঘাত হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের আইনি সাহায্য করতে প্রতিটি ব্লকে বিশেষ সেল তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে (West Bengal Assembly Election 2026)।













