বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তান (Pakistan) ও আফগানিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা এবার আরও এক ধাপ বেড়ে গেল। আফগানিস্তানের তালিবান সরকার দাবি করেছে, তারা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালোচিস্তানের একাধিক এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রোভিন্স জঙ্গিগোষ্ঠীর ঘাঁটিগুলিকে ধ্বংস করা। তালিবান প্রশাসনের দাবি, ওই জঙ্গিরা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করছিল এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানে (Pakistan) ভয়ঙ্কর প্রত্যাঘাত আফগানিস্তানের!
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি অনুযায়ী, ডুরান্ড লাইন পেরিয়ে পাকিস্তানের (Pakistan) গুলিস্তান, শাকার আব এবং কাম্বার খেল-সহ একাধিক এলাকায় ড্রোন হামলা চালানো হয়। তালিবানের বক্তব্য, ওই সব এলাকায় আইএসআইএস-কের প্রশিক্ষণ শিবির ও অপারেশনাল ঘাঁটি ছিল। হামলায় একাধিক ঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। যদিও পাকিস্তানের তরফে এখনও পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আফগানিস্তানের বক্তব্যে পরিষ্কার, তারা এই অভিযানকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে।
এই ঘটনার পেছনে রয়েছে গত কয়েক সপ্তাহের সীমান্ত সংঘাত। তালিবান প্রশাসনের অভিযোগ, গত ৯ জুন পাকিস্তানের বায়ুসেনা আফগানিস্তানের খোস্ত, কুনার এবং পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ সেই সময় দাবি করেছিলেন, গভীর রাতে চালানো ওই হামলায় বহু সাধারণ নাগরিক, নারী ও শিশু প্রাণ হারান। তাঁর অভিযোগ ছিল, মানুষ ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে পাকিস্তান এই হামলা চালিয়েছে এবং নিরীহ বাসিন্দাদের পালানোর কোনও সুযোগই দেওয়া হয়নি। ওই ঘটনার পর থেকেই আফগানিস্তান পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিতে শুরু করেছিল।
পাকিস্তানের বিমান হামলার পর সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়। তালিবান যোদ্ধারা ডুরান্ড লাইনের কাছে পাকিস্তানি সেনার একাধিক চৌকি ও ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করে। এমনকী কয়েকটি ঘাঁটি দখলের কথাও জানানো হয়েছিল। এবার সেই উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ড্রোন হামলার দাবি সামনে এল। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এদিকে চলমান সংঘর্ষের মানবিক প্রভাবও ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। রাষ্ট্রসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানি বিমান হামলা এবং সীমান্ত সংঘর্ষের জেরে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলিতে ৯৪ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বহু পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং মানবিক সহায়তা কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, যদি এই উত্তেজনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে আফগানিস্তান-পাকিস্তান(Pakistan) সীমান্তে আরও বড় সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে এখন নজর কূটনৈতিক মহলের দিকে— দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এই সংঘর্ষ কতদূর গড়ায়, সেটাই দেখার।

















