জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে ৮০০০ কিমির ‘গ্রেট গ্রিন ওয়াল’, অষ্টম আশ্চর্য বানাচ্ছে আফ্রিকা!

Published on:

Published on:

Africa is building Wall of Trees to fight climate change
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি সাহারার বিস্তার ঠেকাতে সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ‘গ্রেট গ্রীন ওয়াল’ বা Wall of Trees তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছে আফ্রিকা। যা এই বিশ্ব উষ্ণায়নের যুগে অত্যন্ত প্রশংসনীয় একটি পদক্ষেপ। আফ্রিকার এই সুবিশাল সবুজ বলয়টি সাহারা মরুভূমির সীমান্তবর্তী বিশাল আধা-শুষ্ক অঞ্চল সাহেল জুড়ে প্রায় ৮,০০০ কিলোমিটার বিস্তৃত রয়েছে।

‘গ্রেট গ্রীন ওয়াল’ কী?

‘গ্রেট গ্রীন ওয়াল’ নামে পরিচিত আফ্রিকান দেশগুলোর সবুজ পুনরুদ্ধারের বা সবুজায়নের এই বিশাল কর্মসূচি শুধু গাছ লাগানোর প্রকল্প নয়, বরং অসংখ্য মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আরও বৃহৎ এবং দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা।

Wall of Trees Initiative Africa

‘Wall of Trees’ প্রকল্পের উদ্দেশ্য কী?

প্রসঙ্গত ২০০৭ সালে প্রথম এই ‘গ্রেট গ্রীন ওয়াল‘ তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছিল আফ্রিকান ইউনিয়ন। প্রথম দিকে এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূল থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৫ কিলোমিটার চওড়া একটি সবুজ বলয় তৈরি করা। পরবর্তীতে অবশ্য বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে ক্ষয়প্রাপ্ত ভূমি পুনরুদ্ধার, জল সংরক্ষণ, উন্নত কৃষিব্যবস্থা এবং একইসাথে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও মজবুত করে তোলার যৌথ উদ্যোগ।

আরও পড়ুনঃ এক ক্লিকেই হবে সব কাজ? যুগান্তকারী e vidhan এর সুবিধা আসছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায়

এখানেই শেষ নয়, সবুজায়নের পাশাপাশি বহুমুখী জনকল্যাণ মূলক এই প্রকল্পে আফ্রিকার দেশ গুলির উদ্দেশ্য মরুকরণ মোকাবেলা, খাদ্য নিরাপত্তা মজবুত করা, লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান দেওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে এই অঞ্চলের মানুজন যাতে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন তার ব্যবস্থা করা। সবমিলিয়ে আফ্রিকার এই ‘দ্য গ্রেট গ্রিন ওয়াল’ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আগামীদিনে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলেও প্রাণের অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে আফ্রিকার এই প্রকল্পে মোট ২০টিরও বেশি দেশ যুক্ত রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম সেনেগাল, সুদান, ইথিওপিয়া, মৌরিতানিয়া, মালি, নাইজেরিয়া, চাদ, ইরিত্রিয়া এবং জিবুতির মতো দেশগুলি। সূত্রের খবর এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি হেক্টর ভূমি পুনরুদ্ধারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা নির্ধারিত জমির প্রায় ৩০ শতাংশ। জানা যাচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ কোটি হেক্টর ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি পুনরুদ্ধার, ২৫ কোটি টন কার্বন সংরক্ষণ এবং প্রায় ১ কোটি সবুজ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।