বাংলা হান্ট ডেস্ক : পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথে থাকা সীতা দেবীকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সীতা দেবী কোথায় আছেন, তাঁর বর্তমান অবস্থান নিয়ে এবার মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। অগ্নিমিত্রা জানান, সীতা ও তাঁর পরিবারের জন্য থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের আয় নিশ্চিত করতে সীতার জন্য একটি কাজের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সীতা দেবীকে নিয়ে কী জানালেন অগ্নিমিত্রা পাল(Agnimitra Paul)?
রাখিবন্ধন উপলক্ষে গড়িয়াহাটে আয়োজিত বিজেপির কর্মসূচিতে সীতার প্রসঙ্গ সামনে আনেন অগ্নিমিত্রা। নিজের আগের মন্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি জানান, ‘আমি সীতাদেবীর বিরুদ্ধে নই। কিন্তু সীতা দেবী পার্ক স্ট্রিটের মতো ব্যস্ত রাস্তার পাশে, যেখানে শত শত সাধারণ মানুষ যাচ্ছেন, সেখানে স্টোভে দুধ গরম করা, ফুটপাথে ঘোরাঘুরি করছে। আমি সেটার বিরোধীতা করেছি। আমি খুব রেগে গিয়েছিলাম। আমার বলার ধরণে অবশ্যই অন্যায় হয়েছে।’
সীতার নতুন ঠিকানা ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি অবশ্য অনুষ্ঠান শুরুর আগেই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানান অগ্নিমিত্রা। একটি ভিডিও প্রকাশ করে মন্ত্রী লেখেন,’সীতা দেবী এবং তাঁর পরিবারের জন্য তাঁদের পছন্দমতো জায়গায় বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, সীতা দেবীর জন্য একটি ছোট কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে, যাতে তাঁকে আর ফুটপাথে জীবন কাটাতে না হয় এবং পরিবারটি স্বনির্ভরভাবে নতুন করে পথ চলতে পারে। মানুষের পাশে থাকা, তাঁদের প্রয়োজন বুঝে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা করা—এটাই আমাদের সরকারের অঙ্গীকার।’
শহরের ফুটপাথে বসবাসকারী অন্য পরিবারগুলির প্রসঙ্গও উঠে আসে এ দিনের আলোচনায়। যারা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে আগ্রহী নয়, তাদের কীভাবে পুনর্বাসনের আওতায় আনা যায়, তা নিয়েও বক্তব্য রাখেন অগ্নিমিত্রা। গৃহহীনদের স্থায়ী আবাসনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন : পুজোর প্রসাদে এবার বাধ্যতামূলক লাইসেন্স ! ভেজাল ধরা পড়লেই কড়া ব্যবস্থা নেবে সরকার
উল্লেখ্য, এদিন গড়িয়াহাট মোড়ের রাখি অনুষ্ঠানের দায়িত্বে ছিল বিজেপির মহিলা মোর্চা। সেখানে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তও উপস্থিত ছিলেন। মহিলা মোর্চার সদস্যরা স্বপন দাশগুপ্তের হাতে রাখি পরিয়ে দেন। অগ্নিমিত্রা নিজে পথচলতি মানুষ এবং গাড়িচালকদের রাখি পরান। এদিন শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পড়াশোনার প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং বর্ণপরিচয়। পাশাপাশি তাদের মিষ্টিমুখ করানো হয়। সীতা দেবীর মতো শহরের অন্যান্য ফুটপাথবাসীর জন্য এমন উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের মানুষের।













