বাংলা হান্ট ডেস্ক: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার মাগদালেনা নদী উপত্যকায় জলহস্তীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঠিক এই আবহে জলহস্তীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সেখানে একটি চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত,
সেখানে ৮০ টি জলহস্তী হত্যা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মূলত, ওই এলাকায় জলহস্তীর দ্রুত বর্ধনশীল সংখ্যা স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্থায়, ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানির কনিষ্ঠ পুত্র তথা জামনগরে স্থিত বনতারার (Vantara) প্রতিষ্ঠাতা অনন্ত আম্বানি এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং কলম্বিয়া সরকারের কাছে জলহস্তীগুলির জীবন রক্ষার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অনন্ত আম্বানি একটি মানবিক বিকল্পের প্রস্তাব দিয়েছেন।
বনতারায় (Vantara) নিরাপদ পুনর্বাসনের প্রস্তাব:
অনন্ত আম্বানি প্রস্তাব দিয়েছেন যে, এই জলহস্তীগুলিকে নিরাপদে ও বৈজ্ঞানিকভাবে ভারতে এনে বনতারায় পুনর্বাসন করা হোক। তিনি এটাও জানিয়েছেন যে, সেখানে জলহস্তীগুলি প্রাকৃতিক পরিবেশের মতো বাসস্থান থেকে শুরু করে যত্ন এবং দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা পাবে। এই পদক্ষেপটি শুধু প্রাণীদের জীবনই বাঁচাবে না, বরং একটি টেকসই সমাধানও দেবে।

কলম্বিয়া সরকারের কাছে চিঠি: ইতিমধ্যেই অনন্ত আম্বানি কলম্বিয়ার পরিবেশ মন্ত্রী, ইরিন ভেলেজ তোরেসকে, পরিকল্পনাটি বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখেছেন। তিনি তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এছাড়াও, ভারত ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির নিয়মকানুনও সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ করা হবে।
প্রতিটি জীবের নিজস্ব মূল্য আছে: অনন্ত আম্বানি জানান যে, এই জলহস্তীগুলি পরিবর্তিত পরিস্থিতির ফল। তাই, সেগুলিকে বাঁচানোর কোনও সুযোগ থাকলে অবশ্যই দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব। এদিকে, বনতারা এই লক্ষ্যে একটি বিশদ পরিকল্পনা তৈরি করেছে। অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকদের একটি দলের পাশাপাশি, নিরাপদ পরিবহণ ব্যবস্থা, জৈব-নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং জলহস্তীগুলির জন্য একটি অনুকূল বাসস্থানও রয়েছে। এমতাবস্থায় অনুরোধ করা হয়েছে যে, এই প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত যেন জলহস্তীগুলিকে মেরে ফেলার প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়।
আরও পড়ুন: ভারতের ডেটা ইকোসিস্টেমে বড় পদক্ষেপ মুকেশ আম্বানির! করছেন ১.৬ লক্ষ কোটির বিশাল বিনিয়োগ
ক্রমশ বাড়ছে জলহস্তীর সংখ্যা: জানিয়ে রাখি যে, ম্যাগডালেনা উপত্যকায় প্রায় ২০০ টি জলহস্তী রয়েছে। যেগুলি ১৯৮০-এর দশকে আনা কয়েকটি জলহস্তীর বংশধর। প্রাকৃতিক শিকারীর অভাব এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে সেগুলির সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের ওপর চাপ বেড়েছে এবং এই কারণেই সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘এটা অনুচিত…’, বৈভবের প্রসঙ্গে মনু ভাকেরকে প্রশ্ন করতেই তোলপাড় নেটমাধ্যম, গর্জে উঠলেন নেটিজেনরা
বনতারার ভূমিকা: উল্লেখ্য যে, গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত বনতারা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণ কেন্দ্র। এখানে হাতি থেকে শুরু করে বাঘ, সিংহ এবং অন্যান্য প্রাণীদের জন্য অত্যাধুনিক চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সংরক্ষণের সুবিধা প্রদান করে। ইতিমধ্যেই বনতারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক উদ্ধার ও পুনর্বাসন অভিযানেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এই উদ্যোগটি প্রমাণ করে যে, বন্যপ্রাণীর জটিল সমস্যা শুধু কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমেই নয়, বরং মানবিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমেও সমাধান করা সম্ভব। এমতাবস্থায়, যদি জলহস্তীগুলিকে বাঁচানোর লক্ষ্যে অনন্ত আম্বানির এই প্রস্তাবটি গৃহীত হয় সেক্ষেত্রে এটি গ্লোবাল পর্যায়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।












